
চোরাকারবারি ও মানব পাচারকারী’ হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিজের নাম প্রকাশিত হওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ইদুকোনা গ্রামের প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের পুত্র মো. এমরান হোসেন।
বুধবার (৩ জুলাই ২০২৫) দোয়ারাবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার এবং আমার পরিবারের সামাজিক অবস্থান নষ্ট করতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে।”
সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় ‘মানব পাচারকারী এমরান হোসেন বিজিবির হাতে আটক’ শিরোনামে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি। এমরান বলেন, “আমার বাবা আনোয়ার হোসেন ৩৫ বছর ধরে সৌদি আরবে পরিশ্রম করে আমাদের পরিবার গড়ে তুলেছেন। আমি নিজেও সৎভাবে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। অথচ এখন আমাদের বিরুদ্ধে চোরাচালান, ইয়াবা পাচার, এমনকি ‘মহিষের পেটে ইয়াবা পাচার’—এমন হাস্যকর অভিযোগও তোলা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিজিবির হাতে যাদের আটক করা হয়েছে, তারা কেউই আমার পরিচিত নন। এমনকি যেসব আত্মীয়ের নাম সংবাদে এসেছে, তারাও এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।”
এমরান হোসেন প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো সত্য তথ্য, ভিডিও ফুটেজ বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ থাকে, তাহলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমি তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব, তবে গুজবের ভিত্তিতে আমার এবং আমার পরিবারের মান-সম্মানহানি কাম্য নয়।”
তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান—যথাযথ তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো মানহানিকর সংবাদ যেন প্রকাশ না করা হয়। পাশাপাশি অপপ্রচার চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে এমরান হোসেন বলেন, “আমি একজন সাধারণ নাগরিক, একজন প্রবাসীর সন্তান—সেই সম্মান নিয়েই শান্তিতে বাঁচতে চাই।”
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিরাজ মিয়া, আজিম মিয়া, ইয়াকুব আলী, আব্দুছ সালাম, মহসিনসহ আরও অনেকে। এছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
