মার্কেট দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

রোকুনুজ্জামান খান
বিশেষ প্রতিনিদি

print news

গাজীপুরে একটি মার্কেট দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে আতিকুল ইসলাম কাঁইয়া ও সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জুয়েল রানা জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় নিজ মার্কেটের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী জুয়েল রানা গাজীপুর সদর উপজেলার শিরিরচালা (বাঘের বাজার) এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত আতিকুল ইসলাম কাঁইয়া, মামুন কাঁইয়া, সেলিম সরকার, মনির সরকার ও আসিফ সরকার একই এলাকার বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জুয়েল রানা বলেন, পৈত্রিক সূত্রে বৈধ মালিক হিসেবে তিনি মাহনা-ভবানীপুর মৌজার বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানের মোট ২৩.৬২ শতাংশ জমির মালিক। ওই জমিতে একটি মার্কেট নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আতিকুল ইসলাম কাঁইয়া, সেলিম সরকারসহ তাদের সহযোগীরা তার কাছে চাঁদা দাবি করতে থাকে। দাবিকৃত চাঁদা না দিলে তার সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

জুয়েল রানা আরও বলেন, গত ৯ জুন বিকেলে তিনি নির্মাণাধীন মার্কেটে গেলে অভিযুক্তরা তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি তাদের অন্যায় দাবি মেনে না নেওয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মার্কেট ভেঙে জমি দখল করে নেওয়ার হুমকি দেয়।

এরপর ১০ জুন দিবাগত রাত ৩টার দিকে অভিযুক্তরা তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের নিয়ে তার মার্কেটে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন জুয়েল রানা।

ভাঙচুরের প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে তার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তার মালিকানাধীন জমি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আতিকুল ইসলাম কাঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে জুয়েল রানার কোনো মার্কেট ছিল না। মার্কেটের প্রকৃত মালিক আমি ও আমার মা। জুয়েল রানা নিজেই মার্কেটে ভাঙচুর করে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে, যাতে মার্কেট ও জমি নিজের দখলে নিতে পারে।