গাজীপুরে জাল দলিল তৈরি করে জমি বিক্রি এবং দখলের অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের

রোকুনুজ্জামান খান
বিশেষ প্রতিনিদি

print news

গাজীপুরের শিরিরচালা এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি করে জমি বিক্রি এবং দখলের অভিযোগে করেছে ভুক্তভোগী আবুল হোসেন (৭৫)। প্রতারক সাখাওয়াত হোসেন এবং শাহজাহান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। জমি উদ্ধারসহ প্রতারক চক্রের হয়রানি থেকে মুক্তির জন্য তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতা কামানা চেয়েছেন। শুক্রবার (৪ জুলাই) সকাল ১০ টায় জেলার জয়দেবপুর থানার শিরিরচালা এলাকায় পৈত্রিক সূত্রে মালিাক হওয়া জমিতে সংবাদ সম্মেলন ভুক্তভোগী আবুল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী আবুল হোসেন জয়দেবপুর থানার শিরিরচালা এলাকার মৃত হেকমত আলীর ছেলে। তিনি পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়ে জমির ভোগদখল কারে অসিছিলেন। অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন একই এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে এবং শাহজাহান রহিম উদ্দিনের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ভুক্তভোগী আবুল হোসেন বলেন, জয়দেবপুর থানাধীন মাহনা ভবানীপুর মৌজার এসএ খতিয়ান ৫৭৪, আরএস খতিয়ান ২৩৫ এবং এসএ দাগ-৩০৭ এবং আরএস ৪০৩, ৪০৪, ৪০৯ দাগে মোট ৭ একর ১২ শতাংশ জমি রযেছে তার বাবার। ওই জমি থেকে পৈত্রিক সূত্রে তিনি ১ একর ৯২ শতাংশ জমির মালিক হয়েছেন। ২০১২ সালে সাখাওয়াত ও শাহজাহান জমির ভূয়া কাগজ পত্র তৈরি করে প্রতারনার মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের মাখাটি গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে নাসিমার কাছে ১ একর ৭৫ শতাংশ জমি বিক্রি করে। ওই সময় তারা নাসিমাকে আওয়ামীলীগ নেত্রী এবং শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল করে।

এসময় তাদেরকে সহযোগীতা করে গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) বাতেন। আম মোক্তারের মাধ্যমে জমির মালিকানা নিয়ে নূরুল ইসলাম মাতাব্বর ২০১২ সালের জুলাই মাসের ২ তারখি স্থানীয় মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে ১ একর ৮৩ শতাংশ জমি খারিজ করে। তার একদিন পর জুলাই মাসের ৩ তারখি শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামীলীগ নেত্রী নাসিমা রেখা ১ একর ৭৫ শতাংশ জমি খারিজ করে। ওই সময় মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আব্দুল লতিফ এসব অপকর্মে তাদেরকে সহযোগীতা করে ভূয়া দলিলের মাধ্যমে প্রতারক চক্রকে একই জমি খারিজ করতে সহযোগীতা করে।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের ১৮ তারিখ ভূয়া দলিলের মাধ্যমে করা খারিজ বাতিলের আবেদন করলে প্রতারক সাখাওয়াত হোসেন এবং শাহজাহানের মাধ্যমে নাসিমা রেখা স্থানীয় কয়েকজনের কাছে নামমাত্র মূল্যে দ্রুত ১ একর ৭৫ শতাংশ জমি জমি বিক্রি করে দেয়। সাখাওয়াত হোসেন জাতিয়াতির মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি করে জমি বিক্রি, ভূয়া চুক্তিপত্র, মাস্তান দিয়ে জমি দখল, পুলিশ দিয়ে হুমকিসহ দুর্নীতি ও প্রতারণা করে আসছেন। তার প্রতারণার কারনে আবুল হোসেন এবং তার পারবারের সদস্যরা পথে বসে গেছে। দিনমজুর এবং এলাকায় পরের জমিতে কাজ করে তারা কোনো রকমে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছে।

অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নাসিমা রেখা তার ১ একর ৭৫ শতাংশ জমি ব্যাংকের কাছে মর্গেজ (বন্ধক) দিয়ে লোন নেয়। পরে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে না পারায় তার (নাসিমা রেখা) সাথে সমঝোতা করে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করে আমি ওই জমি (১ একর ৭৫ শতাংশ) ক্রয় করে মালিক হই। আমার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ সম্পর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *