
সুনামগঞ্জের প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নে চেলা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্থানীয় আট গ্রামের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় সোনালী চেলা বারকি শ্রমিক সমবায় সমিতির ব্যানারে নরসিংপুর ইউনিয়নের পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের চেলা নদীর খেয়াঘাটে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও নরসিংপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল হক নমু
নরসিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হাফিজুল ইসলাম জুয়েল, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা রফিকুল ইসলাম, নরসিংপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি তেরাব আলী, জামায়াতে যুব ফোরামের ইউনিয়ন সভাপতি আবিদ রনি, মহিলা ইউপি সদস্য আফরুজা খানম, ১নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ধন মিয়া, ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও রহিমেরপাড়া গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন আহমদ, সাবেক ইউপি সদস্য আশিকুর রহমান।
স্থানীয়দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন
নরসিংপুর ইউপি জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মকবুল হোসেন, বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম নুরু, সোনালী চেলা বারকি শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সরাজ মিয়া, জয়নাল আবেদীন মেম্বার, যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, হেলাল উদ্দিন, পশ্চিম চাইরগাঁওয়ের ইলিয়াস মিয়া, চাইরগাঁও গ্রামের আব্দুল হক, সোনাপুর গ্রামের হানিফ আলী, কামাল মিয়া, হাবিবনগর গ্রামের নওশাদ জামিল, জমসিদ আলী, সাইকুল ইসলাম, কাজিরগাঁও গ্রামের মন্তাজ আলী, আবুল কালাম, রহমতপুর গ্রামের নুর মিয়া, সারপিনপাড়া গ্রামের আক্তার হোসেন, আরব আলী, আব্দুস সালাম, পূর্ব সোনাপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ, আলাউদ্দিন, সারপিননগর গ্রামের আরফতাব আলী প্রমুখ।
সমাবেশে জানানো হয়, ইউনিয়নের আটটি গ্রাম—পূর্বচাইরগাঁও, সারপিনপাড়া, সোনাপুর, চাইরগাঁও, হাবিবনগর, রহিমেরপাড়া, পূর্বসোনাপুর ও নাছিমপুর ছাড়াও ছাতক উপজেলার রহমতপুর, কাজিরগাঁও ও আলমপুর গ্রামের কয়েক শতাধিক বিভিন্ন পেশার মানুষ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ইজারার নিয়ম-নীতির বাইরে গিয়ে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। দিন দিন ড্রেজারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন তীব্র হচ্ছে। চলতি বছরে সারপিনপাড়া ও পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের শতাধিক বসতঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে বহু গ্রামের স্থাপনা, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারাদারের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। যারা প্রতিবাদ করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হামলার হুমকি দেওয়া হয়। নদীর ভাঙন বাড়তে থাকায় এলাকাবাসী বারবার বাঁধা দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে রবিবার তারা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেন। এর আগে শুক্রবার সকালে এলাকাবাসী দুইটি ড্রেজার মেশিন আটক করে; এর মধ্যে একটি মেশিনে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ছয়টি গ্রামের মসজিদে মাইকিং করে মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এলাকাবাসী জানান, বাড়িঘর রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ এবং প্রয়োজনে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
এদিকে গত শুক্রবারের ঘটনার পর দোয়ারাবাজার থানার এসআই আব্দুল জলিল ও এএসআই ফরহাদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, পুলিশ সবসময় বৈধভাবে সহযোগিতা করবে।
দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, “ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় এসব বন্ধে পুলিশ কাজ করবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, “ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন অবৈধ। প্রশাসন এ বিষয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। চেলা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয়রা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা প্রশংসনীয়। এতে প্রশাসনের কাজ আরও সহজ হবে।
- Latest Posts by বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক
-
মার্সেল ফ্রিজ কিনেই ৫০ হাজার টাকার ক্যাশ ভাউচার, উচ্ছ্বসিত মির্জাপুরের দিপঙ্কর
- -
বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে গাকৃবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন, প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ
- -
গাকৃবিতে বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে গাকৃবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি
- All Posts
