দোয়ারাবাজারে চেলানদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

রোকুনুজ্জামান খান
বিশেষ প্রতিনিদি

print news

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ৬ গ্রামের স্থানীয় জনতা।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের পূর্বচাইরগাঁও গ্রামে চেলা নদীর খেয়াঘাট এই বিক্ষোভ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিয়নের ৬ টি গ্রাম পূর্বচাইরগাঁও, সারপিনপাড়া, সোনাপুরচ চাইরগাঁও, হাবিব নগর, রহিমের পাড়া গ্রামের কয়েক শতাধিক শ্রমিক জনতা এই বিক্ষোভ করে। বেলা ১১ টায় চেলা নদীর চাইরগাঁও খেয়াঘাট থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে কাস্টমস অফিস, বিজিবি টহল পোস্ট অতিক্রম করে সোনালী চেলা বিজিবি ক্যাম্পে যায়। সেখানে ড্রেজার মেশিন বন্ধে বিজিবির যাবতীয় সহযোগিতা চেয়ে বিজিবি-বিক্ষোব্ধ জনতার আলোচনা হয়। পরে চাইরগাঁও অটোস্ট্যান্ড ও পূর্বচাইরগাঁও গ্রাম পদক্ষিণ করে পুনরায় খেয়াঘাটে এসে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মধ্যদিয়ে বিক্ষোভ মিছিল সম্পন্ন হয়।

এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ইজারার নিয়ম-নীতির বহির্ভূত এলাকা হতে প্রভাব কাটিয়ে স্থানীয় একটি চক্রকে হাতে নিয়ে ড্রেজিং পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করে আসছে ইজারাদারের লোকজন। যতই দিন যাচ্ছে তাদের ড্রেজার মেশিন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর নিকটবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন ও তীব্র হচ্ছে। চলতি বছরে নিয়মবহির্ভূত ভাবে চেলা নদীতে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে সারপিনপাড়া গ্রাম ও পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের বেশিসংখ্যক বসতঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এতে যতই দিন যাচ্ছে নদীর ভাঙন তীব্র হচ্ছে। ফলে হুমকিতে পড়েছে নদীর পাড়ের- পূর্বচাইরগাঁও,সারপিনপাড়া,সোনাপুরচ চাইরগাঁও, হাবিব নগর, রহিমের পাড়া এই ছয়টি গ্রামের স্থাপনা, বসতঘর,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি। কিন্তু স্থানীয়রা ইজারাদারের ক্ষমতার প্রভাবে মুখ খুলতে ভয় পায়। মিথ্যা মামলা,হামলা ইত্যাদি দিয়ে প্রতিবাদীদের মুখে চাপা দিয়ে রাখা হয়।

এতে নদীর পাড়ের এলাকার ভাঙ্গন তীব্র হওয়ায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে তাদের একাধিকবার বাঁধা নিষেধ করার পরে বিষয়টি আমলে নেয়নি। ফলে শুক্রবার সকালে ২ টি ড্রেজার মেশিন এলাকাবাসী আটক করে নিয়ে আসে। একটি ডেজ্রাশ মেশিনে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুম দড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে এলাকাবসী ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে ৬ টি গ্রামের মসজিদে মাইকিং করে জড়ো হয়। এলাকাবাসী জানান,তাদের বাড়িরঘর রক্ষার্থে চেলা নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে তারা ঐক্যবদ্ধ। প্রয়োজনে যেকোন কিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত তারা।

এদিকে,বিক্ষোভ মিছিল পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করেছেন দোয়ারাবাজার থানার এসআই আব্দুল জলিল,এএসআই ফরহাদ হোসেন । এসময় স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে বৈধসকল আইনী সহযোগিতায় পুলিশ সবসময় পাশে আছে বলে তারা জানান।

এবিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল হক জানান,ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন সম্পন্ন অবৈধ। চেলা নদীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি পুলিশ পরিদর্শন করেছে। পরবর্তীতে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করলে পুলিশকে যে স্থানীয়রা অবগত করেন। তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *