
গাজীপুরে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং লিডার ইলিয়াস মোল্লাসহ তার তিন সহযোগীকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। শনিবার (৩১ মে) রাত ৩টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার ও মেম্বারবাড়ী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আটককৃত ইলিয়াস মোল্লা (৩৫) গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের বানিয়ারচালা গ্রামের ছায়েদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর সেনা ক্যাম্পের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ টিম বাঘের বাজার ও মেম্বারবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে কিশোর গ্যাং লিডার ইলিয়াস মোল্লাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার তিন সহযোগী—অপু, নাহিদ ও জাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে রামদা, ছুরি, চাপাতিসহ বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ইলিয়াস মোল্লা কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। অপু তার ডানহাত, নাহিদ গ্যাংয়ের অন্যতম নেতা এবং জাহিদ সক্রিয় সদস্য।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ইলিয়াস মোল্লার নেতৃত্বে তার গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে বাঘের বাজার ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তিনি স্থানীয় জায়ান্ট টেক্সটাইল কারখানা এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির সঙ্গেও সরাসরি জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি সেনাবাহিনীর টহল দলের সামনে অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসের মহড়া দেন।
ইলিয়াস মোল্লার গ্রেফতারের খবরে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন পর তারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
আটককৃত ইলিয়াস মোল্লা ও তার তিন সহযোগীকে জয়দেবপুর থানায় হস্তান্তর করেছে যৌথ বাহিনী।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, ইলিয়াস মোল্লার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে থানায় পূর্বে চারটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
