দোয়ারাবাজারে রাতের আঁধারে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় উত্তেজনা

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার ৮নং বগুলাবাজার ইউনিয়নের বালিচড়া একতা যুব উন্নয়ন সংঘের ব্যানার ছিঁড়ে, ব্যানারের দুই পাশে জুতা বেঁধে ঝুলিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বগুলাবাজারের মতির পয়েন্ট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

বাজার কমিটির সেক্রেটারির মেয়াদ অনেক আগে শেষ হওয়ায় সেক্রেটারির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাজার পাহারাদার আব্দুল কুদ্দুসের সাথে কথা বলে জানা যায়, মোল্লাপাড়া, নোয়াগাঁও, সোনাচুরা গ্রামের ১৫-২০ জনের একটি দল রাত আনুমানিক ১টার দিকে দেশীয় অস্ত্রসহ বাজারে প্রবেশ করে। তিনি জানান, “ঘটনাটি আমি আমাদের টিম লিডারকে জানাই। দলটি বাজারে ঘোরাফেরা করে। ফজরের আজানের পর তারা রামদা ও লাঠি দিয়ে ব্যানার এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং ব্যানারের দুই পাশে জুতা ঝুলিয়ে রাখে। তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোর কী হয়েছে? চুপ থাক।’”

বাজারের এক ব্যবসায়ী, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, অভিযোগ করেন, “সোনাচুরা, নোয়াগাঁও এবং মোল্লাপাড়ার কিছু উচ্ছৃঙ্খল চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী এই ঘটনায় জড়িত। তারা রাতে বগুলাবাজারের মতির পয়েন্ট এলাকায় সংঘটনের ব্যানার ছিঁড়ে জুতা ঝুলিয়ে দেয়।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সন্ত্রাসীরা প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে।

এ বিষয়ে বালিচড়া একতা যুব উন্নয়ন সংঘের সভাপতি হারুন আর রশিদ বলেন, “আওয়ামী লীগের কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রতিদিন চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপকর্ম করে। সন্ধ্যার পর তারা মদ খেয়ে মাতাল হয়ে মোল্লাপাড়া, নোয়াগাঁও, বগুলাবাজারসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। সাধারণ মানুষ তাদের ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। আমরা সংঘের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল হক (জাহিদ) বলেন, “বগুলাবাজারে ব্যানার ছিঁড়ার ঘটনা শুনে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। লিখিত অভিযোগ পেলে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *