মোশাররফ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

ময়মনসিংহ ব‍্যুরো: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মোশাররফ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম,সভাপতির স্বাক্ষর জাল করা,অতিরিক্ত টাকা আদায়, স্বেচ্ছাচারিতা, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লাখ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষককের অপসারণ ও দুর্নীতির তদন্তের দাবিতে ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ফজলুল হক ও মঞ্জুরুল হক নামের দুইজন স্থানীয় বাসিন্দা।

স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এবং অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চারজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন জলিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতি আ.লীগ নেতা টাইগার মালেকের যোগসাজশে বিভিন্ন পদে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আরো প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন প্রধান শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে সহকারী শিক্ষক আব্দুল রাজ্জাক তৃতিয় শ্রেণীর সার্টিফিকেটের মাধ্যমে এবং কারণীক চাঁন মিয়ার এইচ.এস.সি সার্টিফিকেট জাল দিয়ে চাকুরী করছেন।

এছাড়া বিদ‍্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক হাফিজুর রহমানকে কৃষি শিক্ষক হিসাবে পাঁচ বছর বেতন উত্তোলন করেন জলিল। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে চাপের মুখে বাদল মিয়াকে কৃষিশিক্ষক দেখিয়ে পুনরায় বেতনের টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনে এলাকার আওয়ামী নেতাদের কমিটিতে স্থান করে দিতে সহযোগীতায় করেছেন প্রধান শিক্ষক জলিল। বর্তমানে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে না গিয়ে আওয়ামী দালালদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে গা বাচানোর জন্য লিপ্ত আছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

প্রধান শিক্ষক মো.আব্দুল জলিলের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রসঙ্গ জানতে চাইলে
প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন,আব্দুল জলিল স্কুলে যোগদানের পর থেকে অনিয়ম-দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা এবং লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় কোটি টাকার ঘুসের বিনিময়ে স্কুলের একাধিক শিক্ষক এবং আয়া,নৈশ‍্যপ্রহরী ও ল‍্যাব সহকারী পদে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি।যা এলাকার সবার অজানা নয়। তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ইতঃপূর্বে স্কুল কমিটির কাছে তার আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ঘুস লেনদেনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কয়েকজন শিক্ষকসহ সিন্ডিকেট করে অনিয়ম-দুর্নীতি চালিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়, বিনা রসিদে অর্থ আদায়, ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাৎ।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামসুল হক জানান,শিক্ষক নিয়োগে একাধিকবার আমার স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ বাণিজ্য করেছিলেন আব্দুল জলিল। এসবের বিরুদ্ধে কথা বলাই আমাকে ষড়যন্ত্র করে সভাপতি পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী ফজলুল হক ও মঞ্জুরুল হক এবং এলাকাবাসির দাবি,তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আমলে নিয়ে অবিলম্বে প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিলকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে,স্কুলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *