
গাজীপুর সদর উপজেলার শিরিরচালা এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানার এক অসুস্থ নারী শ্রমিককে কারখানায় কাজে ফিরিয়ে আনতে বাসায় গিয়ে জোরপূর্ব ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে লাইন প্রধান (লাইন চিফ) এর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ভুক্তভোগীকে অন্য লাইনে বদলি করা হয়। পরে সামাজিকভাবে বিব্রত ও মানসিক চাপে ওই নারী শ্রমিক চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগী নারী শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকার শিরিরচালা গ্রামে অবস্থিত ইভিটেক্স এ্যাপারেলস্ লিমিটেড কারখানার সি গ্রুপের একজন অপারেটর হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়ায় টানা দুই দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিনের সকালে একই কারখানার সি গ্রুপের লাইন প্রধান (লাইন চিফ) মোবারক হোসেন তার ভাড়া বাসায় যান। সে সময় তিনি বাসায় একা ও অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। এ সুযোগে মোবারক হোসেন ঘরের ভেতর প্রবেশ করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তিনি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
অভিযুক্ত মোবারক হোসেন ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও হাজী বাড়ীর ফটুয়া গ্রামের মিলন মিয়ার ছেলে। সে শিরিরচালা এলাকায় স্থানীয় ওয়াহাব ফকিরের বাসায় ভাড়া থেকে ইভিটেক্স অ্যাপারেলস্ কারখানায় লাইন প্রধান (লাইন চিফ) হিসাবে কর্মরত আছেন।
ভুক্তভোগী বলেন, আমি অসুস্থ অবস্থায় বাসায় শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমার লাইন প্রধান (লাইন চিফ) মোবারক হোসেন বাসায় এসে আমাকে একা পেয়ে শরীলে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি চিৎকার করলে সে পালিয়ে যায়। প্রথমে লজ্জায় কাউকে কিছু বলিনি। পরে স্বামীকে জানাই এবং কারখানা কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করি।
পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে বেশি কথা বললে বা জানাজানি হলে তোমারই মান-সম্মানের ক্ষতি হতে পারে। পরে তাকে আগের লাইন থেকে অন্য তলায় বদলি করা হয়। এরপর সহকর্মীদের মধ্যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে সামাজিকভাবে বিব্রত হয়ে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, ঘটনাটি কারখানার বাইরে ঘটেছে, তাই এ বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিকরা জানান, মোবারক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নারী শ্রমিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে অতিরিক্ত কাজের চাপ দেওয়া, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা, এমনকি নারী শ্রমিকদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগও রয়েছে। চাকরি হারানোর ভয়ে অধিকাংশ শ্রমিক এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও দাবি করেন তারা।
কয়েকজন শ্রমিক আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও বিভিন্ন নারী শ্রমিকের বাসায় গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছিল মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাদের দাবি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাইন প্রধান (লাইন চিফ) মোবারক হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইভিটেক্স এ্যাপারেলস্ লিমিটেড এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মনিরুজ্জামান বলেন, আমি এখন অন্য একটি ফ্যাক্টরিতে আছি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারবেন।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
