গাজীপুরের উপবন ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তিতে চালকরা

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকায় অবস্থিত মেসার্স উপবন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ভিড় দুপুর গড়াতেই আরও তীব্র আকার ধারণ করে, ফলে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় চরম ভোগান্তি ও যানজট।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনটির সামনে কয়েকশ’ মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও পণ্যবাহী যানবাহন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও তেল নিতে পারছেন না। কেউ কেউ আবার বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে থাকছেন।

তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালক রহিম বলেন, সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনো তেল পাইনি। কাজ ফেলে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আরেক অ্যাম্বুলেন্স চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে যদি তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে রোগীদের জরুরি সেবা দিতে হিমশিম খেতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আশপাশের কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ কম থাকায় অধিকাংশ যানবাহন এই উপবন ফিলিং স্টেশনে এসে ভিড় করছে। ফলে বাঘেরবাজার অংশে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ পথচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘ লাইনের কারণে প্রধান সড়কে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। অনেক সময় ছোটখাটো যানজটও তৈরি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

মেসার্স উপবন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আহসান হাবিব জানান, আমাদের প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ হাজার লিটার তেল চাহিদা রয়েছে। তিন দিন বন্ধ থাকার পর আজ সাড়ে চার হাজার লিটার তেল পেয়েছি। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই ভিড় কমে আসবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—এই সাময়িক সংকট কতদিন চলবে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর স্থায়ী সমাধানে কী উদ্যোগ নেবে।