
গাজীপুর প্রতিনিধি :- রাজধানীর পাশের শিল্পঅধ্যুষিত জেলা গাজীপুর দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও শিল্পখাতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তৈরি পোশাক শিল্প, ভারী ও মাঝারি শিল্পকারখানা, কৃষি উৎপাদন এবং দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়নের কারণে জেলাটি জাতীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এবারই প্রথম মন্ত্রিসভায় গাজীপুর জেলা থেকে কারো স্থান হয়নি। এতে জেলাবাসীর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করছেন অনেকে।
বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন গাজীপুরের কাপাসিয়ার কৃতী সন্তান তাজউদ্দীন আহমদ। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সরকারেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে গাজীপুরের প্রতিনিধিত্ব ছিল। বিভিন্ন সময়ে এ জেলার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদরা মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী। খালেদা জিয়া-এর আমলে গাজীপুর থেকে আ স ম হান্নান শাহ ও এম এম মান্নান মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি বিগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও গাজীপুর থেকে একজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বে ছিলেন।
কিন্তু এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর গাজীপুর থেকে কাউকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। এতে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবু তাহের মুসল্লী ও সদস্য সচিব আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা ও দলীয় কৌশল বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ জেলা থেকেও প্রতিনিধি নাও থাকতে পারে। তবে গাজীপুরের মতো শিল্পসমৃদ্ধ ও জনবহুল জেলা থেকে কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করায় আলোচনা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।
নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। গাজীপুর-১ আসনে মো. মজিবুর রহমান পেয়েছেন ২ লাখ ৮ হাজার ৬৮৮ ভোট, গাজীপুর-২ আসনে এম মঞ্জুরুল করিম রনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬ ভোট, গাজীপুর-৩ আসনে অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু পেয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৪৩ ভোট এবং গাজীপুর-৫ আসনে এ কে এম ফজলুল হক মিলন পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৯ ভোট।
গাজীপুর জজকোর্টের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে জেলার ব্যাপক সাফল্যের পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা আশা করেছিলেন অন্তত একজনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে। কিন্তু ঘোষিত মন্ত্রিসভায় গাজীপুরের কোনো প্রতিনিধির নাম না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার বলেন, নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে একটি ভালো মন্ত্রিসভা গঠন হয়েছে। যাদের সততা ও নিষ্ঠা সম্পর্কে দেশবাসী অবগত। আমরা আশাবাদী তাদের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে। তবে মন্ত্রিসভায় গাজীপুরের কাউকে না রাখায় আমরা আশাহত হয়েছি।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, দল সরকার গঠন করেছে—এতে আমরা আনন্দিত। তবে গাজীপুর থেকে কেউ মন্ত্রী না হওয়ায় তৃণমূল কর্মীদের মাঝে আক্ষেপ রয়েছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন।
- Latest Posts by বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক
-
মার্সেল ফ্রিজ কিনেই ৫০ হাজার টাকার ক্যাশ ভাউচার, উচ্ছ্বসিত মির্জাপুরের দিপঙ্কর
- -
বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে গাকৃবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন, প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ
- -
গাকৃবিতে বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে গাকৃবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি
- All Posts
