পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত বাঘেরবাজার, পুলিশের কড়া নিরাপত্তা

রোকুনুজ্জামান খান
বিশেষ প্রতিনিদি

print news

গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকায় অটোরিকশা স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার জেরে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষায় এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা।

ঘটনার সূত্রপাত ১১ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে। ওই সময় বাঘেরবাজার সাফারি পার্ক সড়কের একটি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদা আদায়ে বাধা দেওয়ায় হামলার শিকার হন তিনজন—রাফিদ মিয়া (১৬), দেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও রাকিব সরকার (২৩)। অভিযোগে বলা হয়, দেলোয়ার হোসেনকে বিএনপি নেতা ইসলাম উদ্দিনের গুদামে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং তার কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে।

এই ঘটনায় ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের হয়। মামলার প্রধান আসামি ইসলাম উদ্দিন গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসলাম উদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে গত ১৭ জুলাই বৃহস্পতিবার জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ আহমেদকে প্রত্যাহারের দাবি, তদন্ত ছাড়া বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের প্রতিবাদে বাঘেরবাজারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এরপর পাল্টা মামলা করেন বানিয়ারচালা গ্রামের বাসিন্দা জোসনা বেগম। মামলায় সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইউনুছ আলী ওরফে নছ মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম তাজসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, জোসনার স্বামী শাহজাহান আলী ও প্রতিবেশী মিয়ার উদ্দিন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় এবং সুমন মিয়াকে হত্যাচেষ্টা করা হয়। এ সময় মিয়ার উদ্দিনের কাছ থেকে প্রায় ১৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

দুই পক্ষই ইতোমধ্যে একাধিকবার সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলছে তারা।

স্থানীয় বিএনপির নেতাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলেও কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায় থেকে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তবে সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, এসব ঘটনায় আসন্ন নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ আহমেদ জানান, “উভয় মামলার বিষয়ে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না হয়, সেজন্য বাঘেরবাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপতৎপরতা রোধে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই পক্ষের বিরোধে এলাকায় প্রতিনিয়ত উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অটোরিকশা চালকরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন এবং কেউ কেউ রুটে গাড়ি চালাতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে তা দমন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *