
গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় দেশীয় অস্ত্রসহ চাঁদাবাজির অভিযোগে এনামুল শিকদার ও সুমন নামের দুইজনকে আটক করেছে জয়দেবপুর থানা পুলিশ। তবে আটককৃতদের যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি অস্বীকার করেছে গাজীপুর জেলা যুবদল।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকালে ফকিরা গ্রুপের সিএ নিটওয়্যারের সামনে থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। জয়দেবপুর থানার পুুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা জানান, “চাঁদাবাজি ও অস্ত্র বহনের গোপন সংবাদে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
আটক এনামুল শিকদার নিজেকে গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও এ বিষয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবেও রয়েছে একাধিক অভিযোগ।
কারখানার ঝুট ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করেন, এনামুল শিকদার ও তার সহযোগীরা যুবদল নেতা আতাউর রহমান মোল্লার নাম ব্যবহার করে কারখানায় এসে চাঁদাবাজির চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনামুল শিকদার ও তার ভাই এমদাদ শিকদার এর আগেও ইট চুরি, মারধর ও দোকান দখলসহ একাধিক অপরাধে জড়িত ছিলেন। সংখ্যালঘু নারী পার্বতী রানী অভিযোগ করেছেন, তার ছয়টি দোকান ঘর জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন এনামুল ও এমদাদ।
এ ঘটনায় গাজীপুর জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, “আটককৃতরা যুবদলের কেউ নন। তারা সামাজিকভাবে বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে অযোগ্য ব্যক্তি। যুবদলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালে দল তা কখনও সমর্থন করে না।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “গাজীপুর সদর উপজেলার এক নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা মাহমুদুল হাসান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা।”
স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতারা বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
