গাজীপুরের পুষ্পদাম রিসোর্টে দেহ ব্যবসার অভিযোগ: ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড়

রোকুনুজ্জামান খান
বিশেষ প্রতিনিদি

print news

মাহে রমজানের প্রাক্কালে গাজীপুরের পুষ্পদাম রিসোর্টসহ বেশ কয়েকটি স্থানে অবৈধ দেহ ব্যবসা চলার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে অনেকেই প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে ফেসবুক ঘুরে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে, গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার অবস্থিত পুষ্পদাম রিসোর্টে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। “মুজাহিদ লাইভ” নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়— “মাহে রমজানের পূর্ব মুহূর্তে গাজীপুরের পুষ্পদাম রিসোর্টে প্রকাশ্যে চলছে দেহ ব্যবসা!” এর সঙ্গে যুবক-যুবতীদের রিসোর্টে প্রবেশের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হলে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

সেখানে সোহেল নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী কমেন্টে লিখেছেন “পুষ্পদাম রিসোর্ট নিয়ে রিপোর্ট করে কিছুই হবে না ভাই, আওয়ামী লীগ আমলে শেল্টার দিতো জেলা শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতা, এখন দিবে বিএনপির নেতা। পুলিশ তো ম্যানেজ করাই আছে।”

এদিকে মোফাজ্জল হোসেন নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী একটি পোস্টে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে লিখেছেন,”আজকের পর থেকে যদি কোনো অনৈতিক কার্যক্রম চলে, তাহলে ইসলামপ্রিয় জনতাকে সঙ্গে নিয়ে চিরতরে উচ্ছেদ করা হবে ইনশাআল্লাহ।”

অন্যদিকে, শাহান শাহাবুদ্দিন নামের আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী জাতির বিবেককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, “প্রিয় জাতির বিবেক, পুষ্পদামসহ যত দেহব্যবসার আস্তানা আছে, এগুলোতে নজর দিন। বিবেকের দায় নিয়ে এগিয়ে আসুন। সংযুক্ত দায়ী দপ্তর ও কর্তাব্যক্তিদের সজাগ করুন, তাঁদের মুখোশ ভাঙুন।”

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের অবহেলার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এই অসামাজিক কার্যক্রম চলছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করতে কঠোর আইন প্রয়োগ করা জরুরি।

এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ফলে বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

সচেতন নাগরিকরা দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধুমাত্র ফেসবুকে প্রতিবাদ নয়, বরং প্রাসঙ্গিক আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *