বেনাপোল কাস্টমসের নতুন নির্দেশনা: রপ্তানিতে শর্ত, ১২ ধরনের আমদানি পণ্যের বিশেষ পরীক্ষা

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

বেনাপোল (যশোর)  প্রতিনিধি: আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে ও বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে বেনাপোল কাস্টমস হাউস একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের খালাস দ্রুততর করা, রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার বা তার বেশি মূল্যের পণ্যচালান এবং ২০ হাজার পিসের বেশি রেডিমেড গার্মেন্টস (যেমন: শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, আন্ডারগার্মেন্টস ইত্যাদি) চালানের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক কায়িক পরীক্ষা করা হবে। কায়িক পরীক্ষায় চালান খুলে পণ্যের ঘোষণা অনুযায়ী মিল পরীক্ষা করা হবে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় ১২ ধরনের আমদানি পণ্যকে শুল্ক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পণ্যগুলো হলো: অ্যাসর্টেড গুডস, সব ধরনের কাপড়, নতুন ও পুরাতন মোটর পার্টস, বাইসাইকেল যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য, প্রসাধনসামগ্রী, ইমিটেশন জুয়েলারি, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রেয়াতি সুবিধায় আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি, শিল্প খাতের যন্ত্রাংশ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও অস্ত্রোপচার সামগ্রী, একই চালানে পাঁচমিশালি পণ্য। এই সব পণ্যের ক্ষেত্রে এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা এবং কায়িক পরীক্ষা করা হবে।

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে হয়রানি বাড়তে পারে। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজস্ব সুরক্ষা ও শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে এসব পদক্ষেপ জরুরি।

উল্লেখ্য, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে ৮০ শতাংশের বেশি বাণিজ্য হয়। এছাড়াও ভারত হয়ে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও এই বন্দর ব্যবহৃত হয়।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *