অসুস্থ বৃদ্ধকে জঙ্গলে ফেলে যায় সন্তানরা, ৩ দিন পর উদ্ধার করে দায়িত্ব নিলেন ওসি

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

রোকুনুজ্জামান খান: গাজীপুর সদর উপজেলায় অসুস্থ এক বৃদ্ধ বাবাকে তার সন্তানেরা বৃদ্ধাশ্রমে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে এসে জঙ্গলে ফেলে চলে যায়। তিন দিন পর তাকে হোতাপাড়া এলাকার বিমান ঘাঁটির পাশের বনের ভিতর থেকে উদ্ধার করে জয়দেবপুর থানা পুলিশ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধ শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানার চরডিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে সাকিব আলী সরদার (৬৫)। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ফেলে যাওয়ার আগে তিনি ঢাকার বাড্ডা এলাকায় বড় মেয়ের বাসায় থাকতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধের বড় মেয়ে ও তার জামাতা, অন্য ভাই-বোনদের সঙ্গে পরামর্শ করে গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বি.কে.বাড়ি বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে যান। কিন্তু বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ বৃদ্ধের অসুস্থতার কারণে তাকে সেখানে রাখতে অপারগতা প্রকাশ করে।

পরে তারা বৃদ্ধকে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার বদলে পথের পাশে একটি জঙ্গলে ফেলে রেখে চলে যায়। তিন দিন সেখানে পড়ে থাকার পর স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, গত ৪ই ডিসেম্বর বিকেলে থানার আওতাধীন হোতাপাড়া এলাকার বিমান ঘাঁটির পাশের বনের ভিতর থেকে একটি জঙ্গলে এক বৃদ্ধ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বৃদ্ধকে অত্যন্ত নোংরা অবস্থায় পাওয়া যায়। তার পায়ে মল-মূত্র লেগে ছিল এবং প্রস্রাবের রাস্তার জন্য একটি ক্যানুলা লাগানো ছিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সমাজসেবা অফিসারকে জানানো হলে তারাও দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বৃদ্ধকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাতেই থানার গাড়িতে করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরের দিন ওসি আব্দুল হালিম হাসপাতালে গিয়ে বৃদ্ধের খোঁজখবর নেন এবং তাকে ফলমূলসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

ওসি আরও জানান, বৃদ্ধ সম্পূর্ণ সুস্থ হলে তাকে বৃদ্ধাশ্রমে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তিনি এ বৃদ্ধের মৃত্যু পর্যন্ত দায়িত্ব নেওয়ারও আশ্বাস দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *