
বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের সাড়াতলা-বেলতা সড়কের পন্ডিতপুর ও বেলতা গ্রামের মধ্যবর্তী মৌতার বাঁওড়। বাঁওড়ের দুই পাড়ে প্রায় ২০০ ফুট দূরত্বে রয়েছে পাকা রাস্তা। ডিহি ইউনিয়নের বেলতা গ্রাম সংযুক্ত পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের বিষহরি গ্রাম। এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের সহজ মাধ্যম এবং স্থানীয় কৃষকদের মাঠের ফসল বাড়িতে আনা-নেওয়ার একমাত্র উপায় এ বাঁওড়।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় যাতায়াত এবং ফসল আনা-নেওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় বাঁওড়ের ওপর একটি বাঁশ-কাঠের সাঁকো তৈরি করা হয়, তবে দীর্ঘদিনের ব্যবহারে দুর্বল সাঁকোটি চলতি বছর সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। ফলে সড়কটি ব্যবহারে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, মৌতার বাঁওড়ের ওপর স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছর আগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছিল, যা প্রতিদিন শত শত মানুষ এবং ছোট যানবাহন চলাচলে ব্যবহৃত হতো। এ সাঁকো দিয়ে স্থানীয় কৃষকরা মাঠের ফসল আনা-নেওয়া করতেন। কিন্তু চলতি বছরের শেষ দিকে অতিবৃষ্টির পানিতে বাঁওড়টিতে প্রবল স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় সাঁকোটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এর ফলে বর্তমানে সাড়াতলা-বেলতা সড়কের এই অংশে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক রওশন আলী বলেন, “সাড়াতলা-বেলতা সড়কটি শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলার সংযোগস্থল। দুই উপজেলার অনেক মানুষ, ছোট ছোট যানবাহন এবং কৃষকদের উৎপাদিত ফসল এই সড়কের পন্ডিতপুর-বেলতা গ্রামের মৌতার বাঁওড়ের ওপর নির্মিত সাঁকোটি ব্যবহার করে উপকৃত হতেন। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে সেটি সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এখানে দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় কৃষক উজ্জ্বল ও সোহেল জানান, “দীর্ঘদিন সাঁকোটি বেহাল অবস্থায় থাকলেও কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। পন্ডিতপুর গ্রামের মাঠ থেকে কৃষি পণ্য আমাদের অনেক কষ্ট করে ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে নিয়ে আসতে হয়। এখন সাঁকো নষ্ট হওয়ায় পানির ওপর দিয়ে কৃষি পণ্য কলাগাছের ভেলায় আনতে গিয়ে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”
কয়েকজন শিক্ষার্থী ও পথচারী বলেন, “এখানে একটি ব্রিজ না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দূরদূরান্তে যাতায়াতে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে।”
ডিহি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মুকুল জানান, “সেতু নির্মাণের সব কাগজপত্র উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে নিয়ে ঢাকার এলজিআরডি দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্প পরিচালক দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি না।”
শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল হক জানান, “জনগুরুত্বপূর্ণ বেলতা খালে সেতু নির্মাণের জন্য ২০২০ সাল থেকেই প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এখন এটি টেন্ডারের অপেক্ষায় রয়েছে। খালের ওপর ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ দ্রুত বাস্তবায়নের আশা করছি।”
- Latest Posts by বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক
-
মার্সেল ফ্রিজ কিনেই ৫০ হাজার টাকার ক্যাশ ভাউচার, উচ্ছ্বসিত মির্জাপুরের দিপঙ্কর
- -
বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে গাকৃবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন, প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ
- -
গাকৃবিতে বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে গাকৃবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি
- All Posts
