
গাজীপুর সদর উপজেলার ধরানীচালা এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে ঝর্না আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর স্বামী জুয়েলকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ধরানীচালা এলাকার সাকি জালালের বাড়ির পাশের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ঝর্না আক্তারের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরে জসিম উদ্দিন, তাঁর দুই ছেলে লিটন (৩০) ও শ্রাবন (২৫) এবং তাঁর স্ত্রী তাঁদের পথরোধ করে গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঝর্নার দাবি, লিটনের লোহার রডের আঘাত ঠেকাতে গেলে তাঁর স্বামী জুয়েলের ডান হাতের কবজিতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাড় ভেঙে যায়। শ্রাবন লাঠি দিয়ে জুয়েলকে মারধর করেন। অন্যদিকে, জসিমের স্ত্রী লাঠি দিয়ে ঝর্নাকে আঘাত করেন। একপর্যায়ে জুয়েলের গলা চেপে ধরে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ঝর্না।
তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁরা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আইনের আশ্রয় নিলে তাঁদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ঝর্না।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জসিম উদ্দিনের সঙ্গে ঝর্না আক্তারের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহকে কেন্দ্র করে এর আগে জসিমের স্ত্রীর সঙ্গে ঝর্নার বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। ওই বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ঝর্নার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জসিম উদ্দিন।
অভিযোগের বিষয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, “আমি শুনেছি, গতকাল ঝর্না ও জুয়েলের সঙ্গে আমার পরিবারের কথা-কাটাকাটি হয়েছে। একপর্যায়ে জুয়েল আমার স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, তাই পরবর্তীতে কী হয়েছে, তা জানি না। ঝর্নার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। কেউ একজন গুজব ছড়িয়েছে।”
এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।