
গাজীপুর সদর উপজেলার বেগমপুর এলাকায় ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগের ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে হামলা, মারধর, কুপিয়ে জখম ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার বাদী কামরুজ্জামান (৪১) বেগমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজিব মিয়া (৩৫) ও আব্দুল আলীম রনিকে সঙ্গে নিয়ে বেগমপুর এলাকার ফেলু মিয়ার মার্কেটের একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ‘বন্ধু ক্যাবল নেটওয়ার্ক’ নামে ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
কামরুজ্জামানের অভিযোগ, একই এলাকার সুমন খাঁন (৩৮), মোমেন খাঁন (৩২) ও মেহেদী খাঁন (১৬) দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যবসা দখলের চেষ্টা করে তাঁর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বাসাবাড়ি, অফিস ও কারখানায় তাঁদের দেওয়া ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগের তার কেটে দিয়ে ব্যবসায়িক ক্ষতিসাধন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে জয়দেবপুর থানাধীন বেগমপুর এলাকার রোমানা হোটেলের সামনে কামরুজ্জামান তাঁর সহযোগী তোতা মিয়া (৪৫) ও রাজন মিয়াকে (১৮) নিয়ে ইন্টারনেট সংযোগের কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা চারদিক থেকে ঘিরে ধরে ইন্টারনেট সংযোগের কাজ করতে নিষেধ করেন।
এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে সুমন, মোমেন ও মেহেদী তোতা মিয়ার ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তোতা মিয়া গুরুতর আহত হন।
পরে তোতা মিয়াকে রক্ষা করতে রাজন এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তোতা মিয়াকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।
এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, এ ঘটনায় দুই পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।