গাজীপুরে গৃহবধূ মিতা রানীর মৃত্যু: এক মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামিরা, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

গাজীপুর সদর উপজেলার কাতলামারা এলাকায় মিতা রানী দাস (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়েরের এক মাস পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার বাঘার বাজার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা অমর দাস অভিযোগ করেন, মৃত্যুর আগের দিন মিতা তাকে ফোন করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, খাবার না দেওয়া এবং তাকে হত্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অমর দাস বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ফুটন ঝুটন  দাসের সঙ্গে মিতার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করতেন মিতা। একপর্যায়ে প্রায় ৮-৯ মাস আগে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে পারিবারিকভাবে সমঝোতার পর গত ১২ জুন তাকে স্বামীর বাড়িতে দিয়ে আসা হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ৮ জুলাই মিতা ফোন করে তাকে নির্যাতন ও খাবার না দেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে তাকে হত্যার আশঙ্কার কথাও বলেন। পরদিন ৯ জুলাই সকালে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয়, মিতা বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পরিবারের দাবি, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে’ তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় ফুটন ঝুটন দাসসহ আটজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা করেন। তবে মামলা হওয়ার এক মাস পরও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত, ময়নাতদন্তসহ সংশ্লিষ্ট আলামত ও তথ্য যাচাই এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে—এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

তিনি আরও বলেন, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে  হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন। সেজন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিপি রানী সিনহা বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।