
যেখানে একসময় ছিল ময়লার বিশাল স্তূপ, চারদিকে ছড়াত দুর্গন্ধ। মশা-মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ ছিলেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পথচারীরা। সেই স্থানটিই এখন বদলে গেছে। ময়লার ভাগাড় সরিয়ে সেখানে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের চারা। গড়ে তোলা হয়েছে সবুজায়নের পরিবেশ।
গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে মুক্তিযোদ্ধা কলেজের প্রধান ফটক সংলগ্ন স্থানে দেখা গেছে এমন পরিবর্তন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের ময়লার স্তূপ অপসারণের পর জায়গাটিতে শুরু হয়েছে বনায়নের কাজ।
এর আগে এ স্থানটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে, কলেজের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে গৃহস্থালি ও বাজারের বর্জ্য ফেলা হচ্ছিল। ফলে প্রতিদিন ময়লার স্তূপ পেরিয়ে কলেজে প্রবেশ করতে হতো শিক্ষার্থীদের। দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উৎপাতের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের কারণে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে ময়লার স্তূপ সরিয়ে স্থানটি পরিষ্কার করা হয়। এরপর সেখানে বিভিন্ন ফুল ও ফলের চারা রোপণ করা হয়েছে। ফলে একসময়কার দুর্গন্ধময় স্থানটি এখন ধীরে ধীরে সবুজে রূপ নিতে শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পরিবর্তনটি চোখে পড়ার মতো। কয়েক মাস আগেও যেখানে ময়লার স্তূপ ছিল, এখন সেখানে গাছের চারা। প্রশাসনের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে জায়গাটি ভবিষ্যতে আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠবে।
মুক্তিযোদ্ধা কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, আগে কলেজে প্রবেশের সময় ময়লার দুর্গন্ধে নাক-মুখ ঢেকে চলতে হতো। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। বরং প্রবেশপথের আশপাশে গাছের চারা দেখে ভালো লাগছে। গাছগুলো বড় হলে কলেজের পরিবেশ আরও সুন্দর হবে।
কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকরাও উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন স্বস্তিদায়ক, তেমনি পথচারীদের জন্যও এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।
গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নজরে আসার পর ময়লার স্তূপ অপসারণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানটিকে সবুজ ও সুন্দর রাখতে সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফুল ও ফলের চারা রোপণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু ময়লা সরিয়ে ফেললেই সমস্যার সমাধান হয় না। ওই জায়গাটি যাতে আবার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত না হয়, সে জন্য সেখানে সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রোপণ করা চারাগুলো নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তোলা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মহাসড়কের পাশে আরও বেশি গাছ লাগিয়ে পরিবেশের সৌন্দর্য ও ভারসাম্য রক্ষা করা হবে।
একসময় যে স্থানটি ছিল ময়লার ভাগাড়, আজ সেখানে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে সবুজের চারা। স্থানীয়দের ভাষায়—ময়লার দুর্গন্ধ থেকে ফুলের সৌরভে এই পরিবর্তন শুধু একটি জায়গার পরিবর্তন নয়, এটি পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সচেতনতারও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।