
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে এর প্রভাব পড়েছে কারখানাগুলোতেও। শ্রমিক ইউনিয়নের নামে ক্ষমতায় আসার প্রতিযোগিতায় নেমেছে ফু-ওয়াং সিরামিক কারখানার শ্রমিক নেতারা।
শ্রমিকরা একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে একই নাম ব্যবহার করে একাধিক কমিটি গঠন করেছে। প্রতিটি দল তাদের কমিটিকে বৈধ দাবি করে গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে, যা সাধারণ শ্রমিকদের বিভ্রান্তিতে ফেলে দিয়েছে।
ঘটনাটি গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকায় অবস্থিত ফু-ওয়াং সিরামিক কারখানায় ঘটেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, “শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন” (রেজিঃ নং ঢাকা-৩৮৬০) নামে তিন মাস আগে একাধিক গ্রুপ নিজেদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেছে বলে দাবি করেছে। এদিকে আরেকটি গ্রুপ বলছে, তাদের কমিটি তিন মাস আগে গঠন করা হয়েছিল এবং অনুমোদিতও হয়েছে। তাই তারা প্রশ্ন তুলছে যে নতুন কমিটি কিভাবে প্রকাশ করা হলো।
শ্রমিকদের মধ্যে একটি অংশের কমিটিতে সভাপতি হিসেবে লাল মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জুয়েলের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। অন্য আরেকটি কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে শহীদুল ইসলাম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সাকিব হাসানের নাম রয়েছে। আবার তৃতীয় একটি কমিটিতে আহ্বায়ক জামাল মিয়া এবং যুগ্ম আহ্বায়ক পাভেল খানকে রাখা হয়েছে। প্রত্যেক কমিটি তাদের প্রচারণায় গণমাধ্যমকে ব্যবহার করছে, যা সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং সংঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। এতে কারখানার ক্ষতির সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।
ট্রেড ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি দুই বছর পর শ্রমিকদের ভোটের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয় এবং এটি ঢাকা বিভাগের ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের পরিচালক থেকে অনুমোদন নিতে হয়।
বর্তমান কমিটির সভাপতি মোঃ লাল মিয়া জানান, “আমরা মাত্র তিন মাস আগে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করেছি। এখন পর্যন্ত নতুন কোনো কমিটির আবেদন করা হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই। বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করতে হলে সকল শ্রমিকের সম্মতি প্রয়োজন। কেউ নির্বাচিত কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করতে পারে না।
অন্যদিকে, আরেক কমিটির আহ্বায়ক জামাল মিয়া জানান, “শ্রমিকদের মতামতের ভিত্তিতেই আমাদের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি কমিটিগুলো ষড়যন্ত্রের অংশ এবং শ্রমিকদের মতামত ছাড়া করা হয়েছে।
অন্য আরেক কমিটির নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগ করা সম্ভব হয়নি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মনে করেন, শ্রমিকদের মধ্যে এই বিভাজন কারখানার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে, কারখানার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে, যা সাধারণ শ্রমিকদের বিপদে ফেলবে।
- Latest Posts by বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক
-
মার্সেল ফ্রিজ কিনেই ৫০ হাজার টাকার ক্যাশ ভাউচার, উচ্ছ্বসিত মির্জাপুরের দিপঙ্কর
- -
বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে গাকৃবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন, প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ
- -
গাকৃবিতে বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে গাকৃবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি
- All Posts
