গাজীপুরে সাবেক নারী সেনাসদস্যকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নে এক সাবেক নারী (২৮) সেনাসদস্যকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শাহ আলম খলিফা (৫০) সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শাহ আলম খলিফা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব ও অশালীন কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন।

পরে গত ৩১ জুলাই বিকেলে ভুক্তভোগী তার নামে থাকা জমিতে বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একজন আমিন নিয়ে জমি পরিমাপ করতে যান। এ সময় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শাহ আলম খলিফা ৫-৬ জন অজ্ঞাত সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে জমি পরিমাপে বাধা দেন। একপর্যায়ে তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীকে মারধর করে আহত করে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ফোনটি ফেরত চাইলে তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে বিবস্ত্র করা হয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পরে স্বজনরা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী মামলা হওয়ার চার দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার আসামিকে গ্রেফতার করতে না পারায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তারা। তাই দ্রুত আসামিকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শাহ আলম খলিফার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত একজন জনপ্রতিনিধি হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী একজন সাবেক নারী সেনাসদস্য হওয়ায় ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।