পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধ: নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

গাজীপুর সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গত মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার শিরিরচালা তালগাছিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত নিরাপত্তা কর্মী রফিকুল ইসলাম বর্তমানে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় রয়েছেন। এদিকে ভুক্তভোগী জমির মালিক সেলিনা পারভীন ঘটনাটির পরপরই জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করলেও অভিযুক্তরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং উল্টো তাদেরকেই একাধিক মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী সেলিনা পারভীন জানায়, আমার মাতৃসূত্রে পাওয়া শিরিরচালা এলাকার মাহনা ভবানীপুর মৌজার ১০.৫০ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রেখেছি। ওই জমির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মী রফিকুল ইসলাম সেখানে বসবাস করেন। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রতিবেশী আবুল হোসেন, আবুল কাশেম, আবু সাইদসহ ১১ জন নামীয় এবং আরও ৮–৯ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে জমিতে প্রবেশ করেন। তারা রফিকুলকে ঘর ছেড়ে যেতে বললে তিনি আপত্তি জানান। এতে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। সেলিনা পারভীন সদর উপজেলার শিরিরচালা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিন কাঁইয়ার মেয়ে।

তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে আবুল হোসেন (৬০), তার স্ত্রী মলি বেগম (৪০), ছেলে মনির (৩২), আবুল কাশেম (৫৮), তার ছেলে মারুফ (২৮), আবু সাইদ (৫৫), তার স্ত্রী সামসুন নাহার (৫০), ছেলে হাফিজুর (৩২), আঃ বারেকের ছেলে আজিজুল (৪৫), তার স্ত্রী আফরোজা (৩৫), মামুন (৪০) প্রমুখ ছিলেন। তাদের সঙ্গে আরও ৮–১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি অংশ নেন।

পূর্বে হামলাকারীরা বসতঘরের টিন কেটে ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সেলিনা পারভীন ও স্থানীয়রা আহত রফিকুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহত রফিকুল জানান, তিনি একজন সাধারণ দিনমজুর। পেটের দায়ে বাসাবাড়িতে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরি নেন। এ চাকরি করার ‘অপরাধে’ আবুল হোসেনসহ তাঁর লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁর একটি হাত ও পা ভেঙে দেয়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে জখম করা হয়।

তিনি আরও বলেন, “ঈদের আগে আমি পরিবার নিয়ে এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছি। আমার কি অপরাধ ছিল? আমি এর ন্যায় বিচার চাই।

ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান,
ঘটনার সময় আমি ও আমার সহকর্মীরা বাজারে ছিলাম। হঠাৎ ফোন পাই যে আবুল হোসেনের পরিবার এক ব্যক্তিকে মারধর করছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে আমাদেরও মারধর করা হয়। একজন সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে গিয়ে এখন উল্টো আমাদের নামেও মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃত ও অসম্পূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিকভাবেও হেয় করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল হোসেন বলেন, আমাদের জায়গায় রাতে ঘরবাড়ি নির্মাণের কাজ করতে এসেছিল। কাজ বন্ধ করতে নিষেধ করলে সবাই চলে যায়, কিন্তু সে যায়নি। সে কারণেই সবাই তাকে মারধর করেছে। রাজনৈতিক নেতাদের নাম উল্লেখ্য করে থানায় মামলা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এখানে তাদের কোন জমি নেই। তারা এসে আমাদের মারছে তাই আমরা তাদেরকে মারছি।

এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটিতে উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক মামলা নেওয়া হয়েছে। জমি–সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় রাজনৈতিক নেতা–কর্মীদের নাম মামলায় জড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাদী পক্ষ যার নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দেন, পুলিশ তা বাদ দিতে পারে না। তদন্তে যদি কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে আইন অনুযায়ী তাদের মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।