গাজীপুরে কারখানায় চাঁদাবাজি ও হামলায় সুপারভাইজারসহ তিন শ্রমিক আহত

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

গাজীপুর সদর উপজেলায় ন্যাসলে বাংলাদেশ লিমিটেডের শ্রমিক সরবরাহ ও ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি, হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার জালাল উদ্দিন (৫১)সহ তিন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার নয়নপুর পেপসি গেইট এলাকার নজরুল ইসলাম ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়  এম.আর কর্পোরেশন (ন্যাসলে বাংলাদেশ লিঃ)-এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মনোমালিন্য ও শত্রুতার জেরে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসছেন। তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে আসছিলেন।

বাদী জালাল উদ্দিন অভিযোগে উল্লেখ করেন, ১০ মার্চ সকাল ৬টা ২০ মিনিটে নজরুল–সাইফুলসহ নয়জন নামীয় ব্যক্তি এবং ১০/১৫ জন অজ্ঞাত সহযোগী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সামনে এসে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে তারা প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। জালাল উদ্দিন অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাকে গুরুতর জখম করে।

অভিযোগে বলা হয়, সাইফুল ইসলাম চাপাতি দিয়ে জালালের মাথায় কোপ মারলে তিনি সামান্য কাত হয়ে পড়ায় সেই কোপ মাথার ডান পাশে লেগে গুরুতর রক্তাক্ত হন। পরে সোহান শেখ দা দিয়ে কোপ মারলে তা তার বাম কনুইতে লেগে মারাত্মক জখম সৃষ্টি হয়।

তার চিৎকারে শ্রমিক মোঃ সাগর হোসেন ও আব্দুল জলিল এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। নারী শ্রমিকদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। রনি মিয়ার কোপে শ্রমিক সাগর গুরুতর আহত হন এবং মনির–হারুনসহ কয়েকজনের আঘাতে আব্দুল জলিলের পায়ে গুরুতর হাড়ভাঙা জখম হয়।

স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং চাঁদা না দিলে সুযোগ পেলে কর্মচারীদের হত্যা করে লাশ গুম করবে ও প্রতিষ্ঠান দখল নেবে বলে হুমকি দেয়।

পরে আহতরা সহকর্মীদের সহায়তায় শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অফিসার নয়ন কুমার কর জানিয়েছেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষেরই অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।