
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: বাঁচতে চায় মোহাম্মদ মোনায়েম (২৬)। বিদ্যুৎ লাইনের কাজে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রায় ১৫ মাস ধরে শয্যাশায়ী এই যুবক জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তার অবস্থা দিন দিন আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
জানা গেছে, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার সাতখামাইর এলাকায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিদ্যুৎ লাইনের কাজে দৈনিক ৬০০ টাকা হাজিরায় কাজ করতেন মোনায়েম। দুর্ঘটনার দিন বৃষ্টি হচ্ছিল এবং শরীরও ভালো ছিল না। সে কারণে তিনি ফ্লোরম্যানকে মোবাইলে জানান যে ওই দিন কাজে যেতে পারবেন না। তবে তার আপত্তি উপেক্ষা করে ফ্লোরম্যান পিকআপ পাঠিয়ে তাকে কর্মস্থলে নিয়ে যান।
মোনায়েম জানান, ফ্লোরম্যান বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেও তাকে খুঁটিতে উঠতে নির্দেশ দেন। কিন্তু লাইন বন্ধ নিশ্চিত না করেই দমক দিয়ে কাজ করানো হয়। খুঁটিতে ওঠার পর হঠাৎ বৈদ্যুতিক তারে স্পর্শ লেগে খুঁটিসহ লাইনে কারেন্ট চলে আসে। এতে তিনি প্রচণ্ড শক খেয়ে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। এরপর থেকেই তার জীবনে নেমে আসে চরম অন্ধকার।
মোহাম্মদ মোনায়েম কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের গড়মাছুয়া গ্রামের দিনমজুর মোহাম্মদ কাঞ্চন মিয়ার ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। দুর্ঘটনার কিছুদিন আগেই তার বিয়ে হয়। তবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে থাকায় শরীরে ঘাঁ সৃষ্টি হয়েছে। অসুস্থতা ও দারিদ্র্যের কারণে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। বর্তমানে তার দেখাশোনা করছেন বৃদ্ধ মা বেদেনা আক্তার। তবে অর্থকষ্টে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করতে পারছেন না।
মোনায়েমের বাবা কাঞ্চন মিয়া বলেন, “ছেলের মেরুদণ্ডে ছয়টি রিং বসানো হয়েছে। চিকিৎসা করতে গিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। ভিটেমাটি ছাড়া আমাদের আর কোনো সহায়-সম্বল নেই। তিনি আরও জানান, শুরুতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক কিছু সহায়তা করলেও বর্তমানে আর কোনো খোঁজখবর নেই।
এলাকাবাসীর সহায়তায় এ পর্যন্ত চিকিৎসা চললেও মোনায়েম এখনো ওঠে বসতে পারছেন না। দীর্ঘদিন শুয়ে থাকার কারণে অপারেশনের স্থানসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ঘাঁ হয়ে গেছে। এর আগে তিনি টানা চার মাস হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন। বর্তমানে আবারও প্রায় ১৫ দিন ধরে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইয়াসিন হাসিব খান জানান, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও নিয়মিত পরিচর্যা পেলে মোনায়েমের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অপুষ্টির কারণে শরীরের ঘাঁ শুকাতে দেরি হচ্ছে। এ জন্য পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসকও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার বিষয়। আমরা মোনায়েমের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এমতাবস্থায় অসহায় মোনায়েম ও তার পরিবার সমাজের সহৃদয়বান ব্যক্তি, বিত্তশালী মানুষ এবং সরকারের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সহযোগিতার জন্য বিকাশ নম্বর (মোনায়েমের পিতা): ০১৭১০-০৯৪৮১৬
- Latest Posts by বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক
-
মার্সেল ফ্রিজ কিনেই ৫০ হাজার টাকার ক্যাশ ভাউচার, উচ্ছ্বসিত মির্জাপুরের দিপঙ্কর
- -
বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে গাকৃবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন, প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ
- -
গাকৃবিতে বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে গাকৃবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি
- All Posts
