
গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ফেলে যুবককে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা নিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানা পুলিশ গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে মির্জাপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন আহত যুবকের মা জেসমিন আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেসমিন আক্তার জানান, বিবাদী হাসান খান দীর্ঘদিন ধরে তার জমি কেনার চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। তিনি অপারগতা প্রকাশ করার পর থেকেই হাসান খান শত্রুতা পোষণ করতে শুরু করেন।
চলতি বছরের মে মাসে হাসানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘পিপি ফ্যাশন’-এ তার ছেলে নাহিদুল উসমান (১৯) কে নিরাপত্তা কর্মী (সিকিউরিটি গার্ড) হিসেবে চাকুরীর প্রস্তাব দিলে আমার ছেলে যুব উন্নয়নে ট্রেনিং করার কারনে আমি অপারগতা প্রকাশ করি। এক পর্যায়ে বিবাদী আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করে ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলেকে ফুসলাইয়া নিয়া তার প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেয়।
জেসমিন আক্তারের অভিযোগ, গত ৬ মে ২০২৫ সকালে হাসান খানের কথায় তার নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলায় পানি দিতে থাকা অবস্থায় হাসান খানের নির্দেশে তার সহযোগী নিলয় তার ছেলের সঙ্গে উস্কানিমূলক কথাকাটাকাটি শুরু করে। একপর্যায়ে নিলয় ইচ্ছাকৃতভাবে নাহিদুলকে তৃতীয় তলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে তার মেরুদণ্ডের সাতটি হাড় ভেঙে যায় এবং মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে আহত নাহিদুলকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর নিটোর, এনআইএনএস, ডিএমসি, সিআরপি সাভারসহ একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে
প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
জেসমিন অভিযোগ করেন, প্রথমদিকে স্থানীয়ভাবে বসে হাসান খান চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তারা কোনো সহযোগিতা তো দূরের কথা, উল্টো বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে শুরু করে। পরে চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর চিকিৎসা খরচ চাইতে গেলে হাসান খান তার গুরুতর আহত ছেলেকে প্রকাশ্যে মারধর করে বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে নাহিদুলকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগ দায়ের করতে থানায় গেলে মামলা না নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্তের কথা বলে পুলিশ আমাদের হয়রানি করছে। এছাড়াও হাসান খানকে অভিযোগ থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পুলিশ বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচারের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সুজন জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারসহ প্রাথমিক তদন্তে হাসান খানের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই তাকে আসামি করে মামলা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকায় এবং কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় নিলয়কে আসামি করে মামলা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তদন্তে অন্য কারও বিরুদ্ধে তথ্য পাওয়া গেলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে তিনি।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল্লাহ জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। যেহেতু আমি যোগদানের আগেই অভিযোগটা করা হয়েছিল। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
- Latest Posts by বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক
-
মার্সেল ফ্রিজ কিনেই ৫০ হাজার টাকার ক্যাশ ভাউচার, উচ্ছ্বসিত মির্জাপুরের দিপঙ্কর
- -
বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে গাকৃবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন, প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ
- -
গাকৃবিতে বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে গাকৃবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি
- All Posts
