গাজীপুরের মনিপুরে চাঁদাবাজির রাজত্ব: যুবদল নেতা ও কাশেমের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রোকুনুজ্জামান খান
বিশেষ প্রতিনিদি

print news

গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর এলাকায় অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছেন যুবদল নেতা আমির হাসান রিপন ও সুইপার কাশেম শিকদার। দুই পক্ষই নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও স্থানীয় চালক ও সাধারণ মানুষের বক্তব্য থেকে চাঁদাবাজির সত্যতা মিলছে।

শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হাসান রিপন দাবি করেন, মনিপুর চৌরাস্তায় যানজট নিরসনের জন্য জয়দেবপুর থানার পরামর্শে চারজন লাইনম্যান নিয়োগ করা হয়। তাদের বেতন ও অসহায়দের সাহায্যের জন্য প্রতিটি অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা করে তোলা হয়। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ২০ টাকা আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন, যা তারা মেনে না নেওয়ায় এক লাইনম্যানকে মারধর করা হয়। বিষয়টি নিয়ে জয়দেবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে।

যদিও রিপন নিজেকে স্বচ্ছ দাবি করছেন, স্থানীয়দের অভিযোগ ভিন্ন। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) মনিপুর বাজারে স্থানীয় সচেতন মহল ও অটোরিকশা চালকরা চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন। বক্তারা বলেন, রিপন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে আসছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রিপনসহ ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল মুসুল্লী, গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক আঃ মুতালেব হাজী, আনিস মুসুল্লী, সোহাগ মুসুল্লী ও সামিম মুসুল্লী।

এদিকে, মনিপুর বাজার অটোরিকশা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সুইপার কাশেম শিকদারের বিরুদ্ধে। লাইনম্যান আনিছ জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন যে, কাশেম ও বাকের সিকদার স্ট্যান্ডের দখল নিতে চান এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে লাইনম্যানদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। মঙ্গলবার রাতে কাশেম তার লোকজন নিয়ে এসে লাইনম্যানদের স্ট্যান্ড ছাড়ার নির্দেশ দেন। তারা রাজি না হলে, কাশেম আনিছের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কাশেম প্রকাশ্যে হুমকি দেন যে, লাইনম্যানরা স্বেচ্ছায় স্ট্যান্ড না ছাড়লে তিনি তাদের হত্যা করবেন। আনিছ জানান, “ময়লা কাশেম আমাদের কাছে স্ট্যান্ড বাবদ টাকা দাবি করতেন। আমরা তা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আমাদের ওপর হামলা চালান।”

তবে কাশেম শিকদার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং রিপন নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন, আমরা এতে বাধা দিলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।” কাশেম দাবি করেন, তার কাছে ঘটনার ভিডিও ও প্রমাণ রয়েছে।

এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কিন্তু স্থানীয়দের মতে, চাঁদাবাজির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও প্রশাসনের তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি।

প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে প্রকৃত দোষী কে? রিপনের নেতৃত্বে বিএনপি নেতারা চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন, নাকি কাশেম স্ট্যান্ড দখল নিতে লাইনম্যানদের ওপর হামলা চালিয়েছেন? তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই এখন জরুরি। প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত করে চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *