
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ঘরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের সূত্র ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় পা ভাঙল বৃদ্ধা মমিনা বেগমের ( ৫২)। শুধু তাই নয় এই ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের কোপে মাথায় সেলাই পড়েছে মমিনার স্বামী ইব্রাহিম আলীর। আর আহত হয়েছেন একই পরিবারের ৩ ছেলে ও এক মেয়ে। তারা প্রত্যেকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফিরেছেন বাড়ি। ভুক্তভোগীরা ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (২৭ জানুয়ারিতে) কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর গ্রামে। পরে ৩০ জানুয়ারি ভুক্তভোগী মোঃ মাইদুল ইসলাম পরিবারের পক্ষে মামলাটি থানায় দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ার সকাল ৮টায় আমার পিতা ইব্রাহিম আলী কাশেম বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে প্রতিপক্ষ নুরুল হক, শাহিন মিয়া, ফজলুল করিম, নুরুজ্জমান ও তার দলবলের হামলার শিকার হন।
এসময় তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হাতে লাঠি, সোটা, ছোরা, লোহার রড়, রামদা সহ অতর্কিত ভাবে আমার পিতাকে ধরে নুরুজ্জমান আসামীর হুকুমে নুরুল হকের হাতে থাকা রামদা দিয়া আমার পিতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাহার মাথায় কোপ মারিয়া গুরুত্বর রক্তাক্ত ও জখম করে। আমার বাবার চিৎকার শুনে আমার ভাই হাফিজুল, মফিজুল ও আমি ঘটনাস্থলে গেলে মোঃ ফজলুল করিমের হাতে থাকা ছোরা দিয়া আমার ভাই হাফিজুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারিয়া গুরুত্বর রক্তাক্ত কাটা জখম করে। পরে তারা আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়।
এসময় বাড়ি করার জন্য নগত জমানো টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে। এসময় আমার মা মমিনা বেগম ও বোন মোছা. রেজিয়া খাতুনকে মেরে আহত করেন। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বাদি মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ আমরা ভাইয়ের ঢাকায় থাকি। গ্রামে আসছি বেড়াইতে বাড়ি করার জন্য। সকালে তারা আমার বাবার উপর হঠাৎ আক্রমণ করে। আমার বাবার মাথায় কোপ দেয়। তাকে মারে তার এখন এক হাত ও এক পা অচল। থানায় মামলা করেছি। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরছে না। আমরা এর বিচার চাই।
এ সময় মাইদুলের মা মমিনা বেগম বলেন, ‘আমরা বাড়িতে মহিলা মানুষ ছিলাম, তারা এসে মেরে আমার পা ভেঙ্গে দিছে। হাতে সেলাই পড়ছে। আমার মেয়েটাকে মেরে চোখ লাল করে দিছে। আমরা এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে মামলার এক নম্বর আসামীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরে পরিচয় সোনার পর বলেন, পরে আপনার সাথে কথা বলবো। পরে তার সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। পরে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায় নি।
ছুটিতে ঢাকায় থাকায় ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে মামলার তদন্তকারীর কর্মকর্তা ফুলবাড়ি থানার উপ- পরিদর্শক সুফিয়ান বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে, আসমীরা পলাতক। তাদের ধরার চেষ্টা চলছে।
- Latest Posts by বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক
-
গাজীপুরের আলোচিত ঝর্ণা হত্যা: আসামির বয়স জালিয়াতি করে কিশোর সাজানোর চেষ্টা
- -
“উদ্ভাবন সুরক্ষায় মেধাস্বত্ব অপরিহার্য” — গাকৃবি ভিসি
- -
পঞ্চগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আইনজীবী সোলেমান হক নিহত
- All Posts
