
বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার কালিয়ানী গ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় এক কৃষক পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫ জন।
শনিবার রাতে গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামিদ সর্দারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক কবীর হোসেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন আয়ুব হোসেন, মোক্তার আলী, কবীর হোসেন, ফারুক হোসেন এবং জুলফিকার আলী। তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে সন্ত্রাসীদের ভয়ে তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ২০-২৫ জন লোক কবীর হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এবং ঘরে থাকা মহিলাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী কবীর হোসেন জানান, প্রতিবেশী ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। ইসমাইল হোসেন প্রায় ১২ বছর ধরে ওই জমি দখল করে রেখেছিলেন। চলতি বছরের ৫ আগস্ট জমিটি দখলমুক্ত করার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও সমস্যা মীমাংসা হয়নি।
সম্প্রতি গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামিদ সর্দার সালিশের নামে কবীর হোসেনের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শনিবার রাতে হামিদ সর্দার এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী কবীরের বাড়িতে এ হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে কালিয়ানী গ্রামের আরিফ হোসেন, গোপালপুরের বোমাবাজ ফারুক এবং ইছাপুর গ্রামের জুলফিকারের নাম উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় পুরো কালিয়ানী গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার রাত থেকেই এলাকা পুলিশ ও বিজিবির নজরদারিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হামিদ সর্দার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি।”
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম রবিউল ইসলাম বলেন, “কালিয়ানী গ্রামে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
