
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে বিক্রি করা জমি পুনরায় দখল করার অভিযোগ উঠেছে আব্বাস আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত আব্বাস আলী পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়নের রহমতপুর হরিপুর এলাকার মৃত দবির উদ্দীনের ছেলে।
জানা যায়, আব্বাস আলী কয়েক বছর আগে রাকিবুল হাসান জানি নামের এক ব্যক্তির কাছে ৩টি সাব কবলা দলিল মূলে ৫১ শতক জমি বিক্রি করেন। জমি কিনে রাকিবুল হাসান জানি সেখানে গাছ লাগান।
গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রাকিবুল হাসান জানি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্ত্রী ফেন্সি বেগম তাকে রংপুরের মাদারল্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলমান থাকায় এবং জানি রংপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার সুযোগে, আব্বাস আলী তার লোকজন নিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর ওই জমির ২৫ শতক দখল করতে গিয়ে মহেন্দ্র দিয়ে হালচাষ করেন। তিনি জমিতে লাগানো ৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ৮৪টি গাছও কেটে নিয়ে যান।
ফেন্সি বেগম জানান, “আব্বাস আলী জমি দখল করতে গেলে আমি বাধা দিই। তখন তিনি ও তার লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। উপস্থিত লোকজন আমাকে উদ্ধার করে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সাথে সাথেই থানায় অভিযোগ করি। থানার অফিসার ইনচার্জ আমাকে ও আব্বাস আলীকে জমির কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত হতে বলেন। আমি কাগজপত্রসহ হাজির হলেও আব্বাস আলী আসেননি।”
ফেন্সি বেগম জানান, “অভিযোগ দেওয়ার পর আব্বাস আলী ক্ষিপ্ত হয়ে বাকি ২৬ শতক জমিতেও মহেন্দ্র দিয়ে হালচাষ করেন। আমি পুনরায় থানায় জানালে পুলিশ তদন্তে গিয়ে হালচাষ করার সত্যতা পায় এবং আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।”
একই এলাকার খবির উদ্দীন বলেন, “রাকিবুল হাসান জানি ৩টি সাব কবলা দলিল মূলে আব্বাস আলীর কাছ থেকে জমি কিনে তা ভোগদখল করেন এবং সেখানে গাছ লাগান।”
আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, “আব্বাস আলী তার বিক্রি করা জমি পুনরায় দখলের চেষ্টা করতে গাছ কেটে নিয়ে সেখানে হালচাষ করেছেন।”
নয়ন ইসলাম বলেন, “আব্বাস আলী ৫১ শতক জমি বিক্রি করার পরও তা দখল নেওয়ার জন্য অবৈধভাবে প্রবেশ করে গাছ কেটে জমিতে হালচাষ করেছেন।”
বোদা থানার এসআই আব্দুস সালাম জানান, “জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় আমি ঘটনাস্থলে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছি।”
অভিযুক্ত আব্বাস আলী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমাকে এলাকা থেকে উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। সেই জমির কোনো মূল্য আমি পাইনি।”
তবে রাকিবুল হাসান জানির স্ত্রী ফেন্সি বেগম বলেন, “আমরা সঠিক মূল্য দিয়ে জমি কিনেছি এবং দলিলসহ যাবতীয় কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে।”
