৫২ টাকা কেজি ধরে বেনাপোল দিয়ে দুই বছর পর চাল আমদানি শুরু

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

বেনাপোল প্রতিনিধি: দুই বছর পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। রোববার (১৭ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে ভারত থেকে চালবোঝাই তিনটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করার মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়।

যশোরের মাহবুবুল আলম ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সুধর্ম আয়াত নির্যাত প্রাইভেট লিমিটেড থেকে প্রথম চালানে ১০৫ টন (এক লাখ পাঁচ হাজার কেজি) নন-বাসমতি চাল আমদানি করেছে। একই প্রতিষ্ঠানের আরও ১০০ টন চাল ওপারে রয়েছে, যা সোমবার (১৮ নভেম্বর) বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করার কথা।

বেনাপোল বন্দর থেকে চাল খালাসের দায়িত্ব পালন করছে হোসেন অ্যান্ড সন্স নামের একটি সিএন্ডএফ এজেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান জানান, আমদানি করা ১০৫ টন চালের মূল্য ৪৫ হাজার ১৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা। আমদানি খরচ অনুসারে প্রতি কেজি চালের দাম পড়ছে প্রায় ৫২ টাকা। পরিবহন, বন্দরের ভাড়া, ব্যাংক খরচসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ করলে প্রতিকেজি চালের মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৫৫ টাকা।

আমদানিকারকদের মতে, দেশের বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার চাল আমদানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে রোববার থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকেও চাল রপ্তানিতে মূল্য নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন, এর ফলে চাল আমদানি বাড়বে এবং দেশের বাজারে চালের মূল্য দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।

২৪ জন আমদানিকারকের মধ্যে যশোর অঞ্চলের ১২ জনকে ৭৩ হাজার টন সিদ্ধ চাল এবং ১৯ হাজার টন আতপ চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সব আমদানিকারক চাল আনতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব চাল আমদানি করে বাজারজাত করতে হবে।

বেনাপোল চেকপোস্ট উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী হেমন্ত কুমার সরকার জানান, তাদের কাছ থেকে কেবলমাত্র মাহবুবুল আলম ফুড প্রোডাক্টস ১০৫ টন চালের জন্য আইপি সার্টিফিকেট নিয়েছে। তাদের আরও ১০০ টন চাল সোমবার বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করার কথা।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবীর তরফদার জানিয়েছেন, রোববার রাতে আমদানিকৃত চাল বন্দরে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতে আরও চাল আমদানি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *