গাজীপুর বিআরটিএতে গ্রাহকসেবায় ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত মোটরযান পরিদর্শক মহিউদ্দিন

print news

গাজীপুর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে গ্রাহকসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলছেন সেবাগ্রহীতারা। বিশেষ করে মোটরযান পরিদর্শক মো. মহিউদ্দিন আহাম্মদের দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও গ্রাহকবান্ধব আচরণ প্রশংসা কুড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর বিআরটিএতে যোগদানের পর থেকে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেসসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে তিনি সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করে গ্রাহকদের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করায় অনেকের ভোগান্তি কমেছে বলেও দাবি তাদের।

সেবাগ্রহীতারা আরও জানান, বিআরটিএ কার্যালয়ে বিভিন্ন কাজ নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা কিংবা একাধিকবার কার্যালয়ে আসার বিড়ম্বনা নিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি ছিল। তবে মহিউদ্দিন আহাম্মদের কাছে সরাসরি সমস্যার কথা বলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়ায় তারা স্বস্তি পাচ্ছেন।

মোটরযান পরিদর্শক হিসেবে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে নিয়ম-কানুন অনুসরণ এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়েও তার প্রশংসা করছেন অনেকে। এতে দালালনির্ভরতা কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ নিজেরাই নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেবা নেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

এ বিষয়ে গাজীপুর বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক মো. মহিউদ্দিন আহাম্মদ বলেন, “সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার না হন, সেটিই আমার মূল লক্ষ্য। সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। একজন মানুষ তার প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে যেন কোনো ধরনের অসুবিধায় না পড়েন, সে বিষয়টি আমি সবসময় গুরুত্ব দিয়ে দেখি।

তিনি আরও বলেন, “বিআরটিএ একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এখানে যারা সেবা নিতে আসেন, তাদের সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব। কাগজপত্র সঠিক থাকলে নিয়ম অনুযায়ী সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানি যেন না হয়, সে বিষয়ে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই।

সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য, সরকারি দপ্তরে একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু নিয়ম প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নিয়মের মধ্যে থেকে সমাধানের পথ দেখানোও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে মহিউদ্দিন আহাম্মদের আচরণ তাদের কাছে ইতিবাচক হিসেবে ধরা দিচ্ছে।

গ্রাহকসেবায় তার এমন ভূমিকা গাজীপুর বিআরটিএতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থের দাবি না করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সেবা দেওয়ার বিষয়ে তার ভূমিকা সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করছে।

সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তরে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন গ্রাহকবান্ধব ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গাজীপুর বিআরটিএতে মহিউদ্দিন আহাম্মদের কর্মকাণ্ড সেই ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে আসছে।