গাজীপুরে ভুক্তভোগী সহায়তা সেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেলেন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ২৫ জন

print news

গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালিকা) ২৫ জন কেয়ারগিভারকে শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ বিষয়ে ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ, সহায়তা প্রদান ও মানসিক ট্রমা কাটিয়ে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুক্তভোগী সহায়তা সেবা ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে করে ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন (আইজেএম), বাংলাদেশ।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাথে আইএজএম বাংলাদেশ এর মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি কৌশলগত পার্টনারশিপের আওতায় প্রশিক্ষণটি আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান অধিশাখা) মোহাঃ কামরুজ্জামান ।

সভাপ্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) তানিয়া তাবাসসুম; ও ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন (আইজেএম), বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্লেয়ার উইলকিনসন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ইন-চার্জ মোসাম্মৎ তাসনিম ফেরদৌসী; গণমাধ্যমকর্মী; ও আইজেএম বাংলাদেশের কর্মকর্তাবৃন্দ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান অধিশাখা) মোহাঃ কামরুজ্জামান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “কেয়ারগিভারদের ভুক্তভোগী শিশুদের কথা শুনতে হবে, বুঝতে হবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায়ই কেবল ভুক্তভোগী শিশুকে সুস্থ ও সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে।

আইজেএম বাংলাদেশ আয়োজিত তিন-দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ, এই কেন্দ্রে আগত ভুক্তভোগী প্রতিটি শিশুর জীবনে পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে।

প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে আইজেএম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্লেয়ার উইলকিনসন বলেন, “ভুক্তভোগী শিশুর সুরক্ষায় পুলিশ, আইনজীবী, বিচারক, কমিউনিটি, কেয়ারগিভারসহ পুরো কার্যক্রমে জড়িত সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরো বলেন, প্রশিক্ষণটি আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সেবাদানকারীরা যাতে শিশুর প্রতি বানিজ্যিক যৌন শোষণ অপরাধ বিষয়ে জানতে পারে ও ভুক্তভোগীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে সঠিক সেবাপ্রদান করতে পারে। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সকল সদস্যের সেবা ও ভালো আচরণের ফলে কেন্দ্রের সকল শিশু মানসিক ট্রমা থেকে সুস্থ হয়ে আনন্দে বাড়ি ফিরে যেতে পারে।গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) তানিয়া তাবাসসুম বলেন, শিশুর সুরক্ষা ও ভুক্তভোগীর সুষ্ঠ সেবার কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইজেএম বাংলাদেশকে ভুক্তভোগী সহায়তা সেবা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনব্যাপী প্রশিক্ষণে বিভিন্ন সেশনে ভুক্তভোগীদের সেবার পরিচিতি, এর মূলনীতি, ভুক্তভোগীদের সহায়তা কৌশল, ট্রমা ও এর প্রভাব, ভুক্তভোগীদের আচরণ বোঝার কৌশল, সারভাইভারদের উদ্বেগ, স্মৃতি বনাম মানসিক আঘাত (ট্রমা), ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার নেয়ার কৌশল, ফলোআপ সাক্ষাতে প্রশ্নের ধরণ বিষয়ে আলোচনা ও ব্যবহারিক অনুশীলন করা হয়।

কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সোশ্যাল কেস ওয়ারকার, কাউন্সেলর, সহকারি শিক্ষক, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, এমব্রয়ডারি ইন্সট্রাক্টর, কম্পিউটার ইন্সট্রাক্টর, চাইল্ড প্রোটেকশন সোশ্যাল ওয়ারকার, সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ারকার, সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলর, মেডিক্যাল এ্যাসিস্ট্যান্ট, এজন প্রবেশন অফিসার, নার্স ও জুনিয়র ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। আইএজএম বাংলাদেশের কর্মকাণ্ডের মৌলিক জায়গা হলো শিশুর প্রতি বানিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধে দেশের বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা; অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারিগরি সহায়তা প্রদান; ভুক্তভোগীদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা; ও শিশু সুরক্ষার চাহিদা বৃদ্ধি করা।

বাংলাদেশে শিশুর প্রতি বানিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধে আইজেএম সর্বপ্রথম সাড়াদানকারী এবং নীতি-নির্ধারকদের সহায়তা করছে, যাতে যাতে এই বিষয়ে প্রণীত আইন ও নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে শিশুর প্রতি বানিজ্যিক যৌন শোষণ ৫০ শতাংশ কমিয়ে এনে ৬০ লাখ শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের আওতাধীন ১১ টি জেলায় কার্যক্রম শুরু করে।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা বিভাগের পাঁচটি জেলায়- ঢাকা, গাজীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইল জেলায় কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে শিশুর প্রতি বানিজ্যিক যৌন শোষণে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কারিগরি সহায়তা, ভুক্তভোগী শিশুদের আইনি সেবা, উদ্ধার পরবর্তী সেবা প্রদান করছে। তাছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউটর, বিচারকগণ, সমাজসেবাকর্মী ও উদ্ধার-পরবর্তী সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গ, শিশু কল্যাণ ও মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সদস্যবৃন্দের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে আইজেএম বাংলাদেশ।

ভুক্তভোগী শিশুদের উন্নতমানের সেবা প্রদানে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়নসহ শিশুর প্রতি বানিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপকহারে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নীতিমালা ও গণমাধ্যমে অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মশালা, গোলটেবিল বৈঠক ও সার্ভাইভারদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে আইজেএম বাংলাদেশ।