
একসময় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং দীর্ঘসূত্রতায় সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম ছিল গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়। একটি ফিটনেস সনদ, মালিকানা হস্তান্তর কিংবা যানবাহন-সংক্রান্ত কোনো সেবা নিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। অনেক ক্ষেত্রেই দালাল ছাড়া কাজ করা কঠিন বলে অভিযোগ ছিল সেবাপ্রার্থীদের।
তবে গত এক বছরে বদলে গেছে সেই চিত্র। কার্যালয়ে বেড়েছে শৃঙ্খলা, কমেছে দালালদের দৌরাত্ম্য এবং স্বচ্ছ হয়েছে সেবা কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে এখন তুলনামূলক অল্প সময়েই মিলছে কাঙ্ক্ষিত সেবা। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং দালালমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন সহকারী পরিচালক এস এম মাহফুজুর রহমান ও মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরেফিন। তাঁদের তদারকি ও আন্তরিকতার ফলেই সেবার মানে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।
গাজীপুর বিআরটিএর সেবাপ্রার্থী টঙ্গীর বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের বলেন, আগে বিআরটিএতে এলে পুরো দিন নষ্ট হয়ে যেত। এখন নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করে অল্প সময়েই কাজ শেষ করতে পেরেছি। কোনো দালালের সহযোগিতা নিতে হয়নি।
আরেক সেবাপ্রার্থী শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা মোছা. রোকসানা আক্তার বলেন,গাড়ির কাগজপত্রের একটি কাজ করতে এসেছিলাম। কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আগের মতো হয়রানি বা অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার ঘটনা দেখিনি।
মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরেফিন বলেন,আমরা প্রতিদিন সেবা কার্যক্রম মনিটরিং করছি। সঠিক কাগজপত্র নিয়ে আসা প্রত্যেক সেবাপ্রার্থীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের আস্থা অর্জনই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
গাজীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন,সেবাপ্রার্থীরা যাতে স্বচ্ছ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। দালালদের কোনো সুযোগ নেই। কেউ অনিয়মের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেবাগ্রহীতারা মনে করছেন, এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে গাজীপুর বিআরটিএ দেশের অন্যান্য কার্যালয়ের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি দালালচক্র যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
