গাজীপুরে কিশোর চালকের বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল পোশাক শ্রমিকের প্রাণ

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

গাজীপুর সদর উপজেলার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে কিশোর চালকের বেপরোয়া গতির কারণে আব্দুল কুদ্দুস (৪৮) নামে এক পথচারী গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রাইভেটকারটি আটক করলেও পরবর্তীতে কিছু লোকজন ও পুলিশের সহযোগিতায় চালককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাইভেট কারটির নাম–ঠিকানা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফকিরা নামে একটি পোশাক কারখানার সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আব্দুল কুদ্দুস ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার নুরাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি মির্জাপুরের বিশুইয়া কুড়িবাড়ি এলাকায় অবস্থিত এনএ জেড বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানায় কাটিং সেকশনে সহকারী কাটারম্যান হিসেবে কাজ করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাইভেটকারটি ভবানীপুর বাজার থেকে ফকিরা গার্মেন্টসের সামনে পৌঁছালে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। একই সময়ে সড়ক পারাপারের জন্য অপেক্ষমাণ গার্মেন্টস শ্রমিক আব্দুল কুদ্দুসকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

মুঞ্জু মিয়া নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় ভাড়া থেকে রাজেন্দ্রপুরের এনএ জেড গার্মেন্টসে চাকরি করত। আজ কর্মস্থলে যাওয়ার আগে আমার হোটেলে খাওয়া–দাওয়া করে রাস্তা পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক তখনই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি খুবই ভালো মানুষ ছিলেন।

এদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন স্থানীয়রা এগিয়ে এসে জানান, সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের শিরিরচালা গ্রামের এনামুল হকের ছেলে কিশোর হামিম (১৫) প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। কিন্তু পরে স্থানীয় একদল নেতার সহায়তায় পুলিশের সামনেই তাকে সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুর রহমান জানান, গাড়ির চালক পালিয়ে গিয়েছে। প্রাইভেটারটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এবং আসামি ধরতে পুলিশ তাৎপর রয়েছে, নিহতর লাশ শহীদ তাজ উদ্দিন মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।