যশোরের সিন্ডিকেটের চাপে অচল সাতমাইল হাট, ক্ষতিতে ব্যবসায়ী-সরকার

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সাতমাইল পশুহাটে দীর্ঘদিনের ইজারা জটিলতা ও স্থানীয় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কারণে সরকার প্রতি হাটে কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার প্রথম হাটের দিন বিক্রি হওয়া গরুগুলো এক জায়গায় আটকে রেখে পাশবিহীন নগদ টাকা নিয়ে গরু বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট। এতে সরকারি খাজনা আদায় কমিয়ে আনার অপচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথম হাটে ব্যর্থ হওয়ায় দ্বিতীয় হাটে গরু ওঠা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করলেও ইজারা জটিলতার কারণে হাটটি নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া যায়নি। ফলে প্রশাসন নিজ উদ্যোগে খাজনা আদায় শুরু করে। কিন্তু শনিবার দ্বিতীয় হাটের দিনে সাতক্ষীরার কলারোয়া, ঝিকরগাছা, নাভারণ, জামতলা ও শংকরপুর এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে পশুবাহী গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। ব্যাবসায়ীদের হাটে না আসতে ফোনে হুমকিও দেওয়া হয়।

ফলে হাটে কার্যত বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যায়। যদিও বাধা সত্ত্বেও প্রশাসন ওইদিন প্রায় ৬০ হাজার টাকা খাজনা আদায় করতে সক্ষম হয়। এর আগে প্রথম হাটে (১৪ এপ্রিল) তিন লাখ ৯৭ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল বলে জানা যায়।

গরু ব্যবসায়ী ইউছুপ আলী জানান, “না জেনে তিনটি গরু নিয়ে বাজারে আসি। কিন্তু কোনো ক্রেতাই পাইনি। গাড়িভাড়া ও খাবার খরচ মিলিয়ে চারজনের প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে।” একইভাবে ক্ষতির কথা জানান আরেক বিক্রেতা ফারুক।

স্থানীয়রা জানান, অতীতেও প্রভাবশালী মহল নামমাত্র টাকা জমা দিয়ে হাট পরিচালনা করত। এখনো সেই সিন্ডিকেট হাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে।

হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক কো-অর্ডিনেশন অফিসার এম নূরুজ্জামান বলেন, “সকালে কে বা কারা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে গরু ওঠা বন্ধ করে দেয়। ফলে বেচাকেনা হয়নি। প্রথম দিনে তিন লাখ ৯৭ হাজার টাকা খাজনা আদায় হয়েছিল।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, “টেন্ডার না হওয়ায় প্রশাসন খাজনা আদায় করছে। প্রথম দিন সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও দ্বিতীয় হাটে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গরু উঠতে দেয়নি। তারা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। বিষয়টি জানার পর পুলিশ নিরাপত্তায় কাজ করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের রাজস্ব নিয়ে কোনো আপোষ নেই। নিয়ম অনুযায়ী কেউ ইজারা নিতে চাইলে বিবেচনা করা হবে।

স্বাভাবিক সময়ে সাতমাইল পশুহাটে প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার হাজার হাজার গরু, মহিষ ও ছাগল বেচাকেনা হয় এবং প্রতি হাটেই লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।