এক যুগ আগের মৃতের নামও হোসেনপুর ভোটার তালিকায়! নির্বাচনে শঙ্কা

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় হালনাগাদ ভোটার তালিকায় এক যুগ আগে মৃত্যুবরণ করা একাধিক ব্যক্তির নাম এখনও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহকারীরা যাচাই-বাছাই না করে ঘরে বসেই তালিকা হালনাগাদ করায় এমন অনিয়ম ঘটেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সাধারণ মানুষ এবং সচেতন নাগরিকদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। তবে এ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে না হলে সরকারি অর্থের অপচয় হয় এবং নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর) আসনের বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলাল মিয়া বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মৃত ব্যক্তিদের নামে ভোট প্রদানের সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল অপব্যবহার করতে পারে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর এলাকায় হালনাগাদ ভোটার তালিকায় একাধিক মৃত ব্যক্তির নাম এখনো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসাদুর রহমান ভূইয়া প্রায় তিন বছর আগে মারা গেছেন। একইভাবে আলাল উদ্দিন ও দীলিপ চন্দ্র দাস প্রায় তিন বছর আগে মৃত্যুবরণ করলেও তাদের নাম এখনও তালিকায় রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য গিয়াস উদ্দিন ২০১০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ফজর আলী, তাহের উদ্দিন ও মতিউর রহমান প্রায় দুই বছর আগে, নারায়ণ চন্দ্র রবিদাস প্রায় চার বছর আগে, রোকেয়া বেগম এক বছর আগে এবং মহর উদ্দিন প্রায় আট বছর আগে মারা গেলেও তাদের নাম ভোটার তালিকায় জীবিত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইভাবে আম্বিয়া খাতুন, জুবেদা খাতুন, ছাফিয়া সুলতানা, আব্দুল হেকিম, কাজল চন্দ্র দাস, ফজলুল করিম আকন্দ, আয়ুব আলী ও ঠান্ডার মা নামের মৃত ব্যক্তিদের নামও তালিকায় রয়েছে। দক্ষিণ গোবিন্দপুরের কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকায় থাকায় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে কিনা তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ২০১২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। ২০১২, ২০১৪, ২০১৬, ২০২২ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই মৃত ব্যক্তিদের স্বজনরা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা না করায় এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

তিনি আরও জানান, মৃত ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে প্রমাণপত্র জমা দিলে যাচাই-বাছাই করে সংশোধন করা হয়। এছাড়া ভোটার তালিকা ছবি সংবলিত এবং ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের উপস্থিতির কারণে মৃত ব্যক্তির ভোট অন্য কারো নামে দেওয়ার সুযোগ