গাজীপুরে কবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১৭২তম জন্মদিনে সশ্রদ্ধ স্মরণ

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

ভাওয়ালের লালভূমির সন্তান, বিদ্রোহী ও নির্বাসিত কবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের ১৭২তম জন্মদিন উপলক্ষে গাজীপুরে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিল্পদর্শীর আয়োজনে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় গাজীপুর আইডিয়াল কলেজে এ সশ্রদ্ধ স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাচিক শিল্পী তপন কুমার চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক অসীম বিভাকর। তিনি প্রবন্ধে কবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের জীবন, সাহিত্যচর্চা ও বাংলা কবিতায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরেন।

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিজন লিয়াকত চৌধুরী, সাবেক অধ্যক্ষ মুকুল কুমার মল্লিক, ভাওয়াল আশরাফুল, শিক্ষক ও বাচিক শিল্পী নাদিম মোড়ল এবং উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গোলাম মাওলা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কবি ও কথাসাহিত্যিক রিপন বাসার, ডুয়েটের সহকারী পরিচালক কবি ও কথাসাহিত্যিক জিয়াউল হক সরকার, অভিনেতা সিরাজুল ইসলাম ও অশেষ বিশ্বাস, সংস্কৃতিকর্মী মুসলিমা খাতুন, হারুন অর রশিদ, মো. শ্যামল হোসাইন, নাঈমা সুলতানা, তানভির আহমেদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে কবির লেখা ‘ভাওয়াল’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন হারুন অর রশিদ। পাশাপাশি ‘বর্ষার বিল’ কবিতা আবৃত্তি করে জয়দেবপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ত্রেয়া চক্রবর্তী উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।

বক্তারা বলেন, কবি গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি ভাওয়ালের জয়দেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা রামনাথ দাস ও মাতা আনন্দময়ী দেবীর জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন তিনি। দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই কবির জীবন ছিল নানা বঞ্চনা ও সংগ্রামে ভরা। ভাওয়ালবাসীর জীবনে তাঁর জন্মদিন আলাদা মহিমা ও তাৎপর্যে চিহ্নিত হয়ে আছে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে।
আলোচকরা আরও বলেন, ১৮৭০ থেকে ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কাল বাংলা কবিতার ক্রান্তিকাল হিসেবে পরিচিত।

এ সময়ে বাংলা কাব্যক্ষেত্রে দুটি প্রধান ধারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে—একটি বিহারীলাল প্রবর্তিত বিশুদ্ধ হৃদয়বাদী ধারা, অন্যটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বিকশিত ধারা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও দেবেন্দ্রনাথ সেন প্রথম ধারাকে পূর্ণতা দিলেও, গোবিন্দচন্দ্র দাস, অক্ষয় কুমার বড়াল, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও কামিনী রায়ের হাত ধরে দ্বিতীয় ধারাটি নতুন শক্তি পায়। তাঁদের মাধ্যমে বাংলা গীতিকবিতায় স্পষ্টতা, বাস্তবতা ও ইন্দ্রিয়াশ্রিত সুর প্রবল হয়ে ওঠে, যেখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।

বক্তারা উল্লেখ করেন, বৈধ পথে কামাতুর কবিতা রচনার মাধ্যমে গোবিন্দচন্দ্র দাস বাংলা কাব্যক্ষেত্রে এক নতুন যাত্রার সূচনা করেন। প্রেমের কবিতার পাশাপাশি তাঁর কাব্যে প্রকৃতি, স্বদেশপ্রেমসহ নানা বৈচিত্র্যময় বিষয় গভীর শিল্পবোধে ফুটে উঠেছে।