
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: বৈরী আবহাওয়া ও গভীর রাতের অন্ধকারকে পুঁজি করে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে গরু চুরির ঘটনা। একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষক ও খামারিরা। নিরাপত্তাহীনতায় অনেকেই রাত জেগে গোয়ালঘর পাহারা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সর্বশেষ শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের পিপলা কান্দি গ্রামের কৃষক রাজন মিয়ার গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে চোরেরা নির্বিঘ্নে গরুগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে সিধলা ইউনিয়নের গড়মাছুয়া গ্রামের কৃষক উজ্জ্বল মিয়ার গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। একই ইউনিয়নের কোনা মেছড়া ও মেছড়া গ্রামে শুক্রবার দিবাগত রাতে আরও দুটি বাড়িতে চুরির চেষ্টা চালানো হয়। তবে স্থানীয়দের সজাগতায় ওই সময় চোরেরা গরু ফেলে পালিয়ে যায়।
এছাড়া উপজেলার গোবিন্দপুর চৌরাস্তার বাসিন্দা মানিক মিয়ার গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু, গাঙ্গাটিয়া এলাকার সুমন চন্দ্র সরকারের দুটি ষাঁড়, আনুহা গ্রামের জিয়া উদ্দিনের তিনটি এবং লাকুহাটি মড়ল বাড়ির আরও তিনটি গরু চুরি হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এখনো চুরি হওয়া গরুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ গোবিন্দপুরের প্রবাসী আজিজুল ইসলামের চুরি হওয়া গরু উদ্ধার হলেও তা ফেরত পেতে তাকে গরুর সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে, যা পরিবারটির জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরু চুরির ভয়ে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে গবাদিপশু বিক্রি করে দিচ্ছেন। কৃষক ইলিয়াস মিয়া জানান, প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের গরু তিনি ২০ হাজার টাকা কমে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। দক্ষিণ গোবিন্দপুরের কৃষক রশিদ মিয়া বলেন, ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। রাত জেগে পাহারা দিয়েও নিরাপত্তা পাচ্ছি না।
এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও কুয়াশার সুযোগ নিয়ে চোরচক্র সক্রিয় হচ্ছে। আমরা টহল জোরদার করেছি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছি। জনদুর্ভোগ নিরসন নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম ফকির বলেন, বারবার গরু চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া প্রশাসনের দায়িত্বহীনতারই প্রমাণ। দ্রুত টহল জোরদার, চোরচক্র শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
হোসেনপুরে গরু চুরির লাগামহীন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
