
বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ন মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান দেশটাকে ধ্বংসলীলায় পরিণত করেছিল। সমস্ত দলগুলোকে বন্ধ করে একটি মাত্র দল গঠন করেছিলেন তা হলো বাকশাল। গণতন্ত্র এবং শেখ মুজিব এক জায়গায় অবস্থান নিতে পারে নাই। সেই বাকশালের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রায় ৪০ হাজার মায়ের বুক খালি করা হয়েছে। ৪৫০টি সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়ে শুধু চারটি পত্রিকা রেখেছিলেন বাকশালের পক্ষে কথা বলার জন্য। অনেক সাংবাদিককে হত্যা করেছেন, অনেক সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছেন, অনেক সাংবাদিক না খেয়ে মারা গিয়েছেন, অনেক সাংবাদিক অর্থের অভাবে আত্মহত্যাও করেছেন। সেই সময়টা ছিল শেখ মুজিবের সময়।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় গাজীপুর জেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের আয়োজনে সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর (তুরাগ নদী সংলগ্ন) বাজারে জাতীয় মৎস্যপক্ষ উপলক্ষ্যে উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য অবমুক্তকরন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেনন।
গাজীপুর মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক সিদ্দিক হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ফারুক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান যিনি স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন এবং উপলব্ধি করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষ এখন স্বাধীনতার ঘোষণা চায়, তখন তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর জিয়াউর রহমান আমাদের মাঝে ফিরে এসেছিলেন বলেই বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন দিতে পেরেছিলেন তিনি। আইনের শাসনের মধ্য দিয়ে দেশ একটি সুন্দর শক্তিশালী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম হয়েছিল। ফারাক্কা বাঁধ বন্ধ হওয়ার কারণে জিয়াউর রহমান খাল খনের নির্দেশ দিয়ে ১৯ দফা দিয়েছিলেন। এই ১৯ দফার মধ্যে খাল খনন কর্মসূচি, মৎস্য, কৃষক ও কৃষি, শ্রমিক, বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করাসহ সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠন সব কিছুই ছিল।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্য বলেন, জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের আগে একটি ইশতেহার ও একটি দল গঠন করেছিলেন। যদি শেখ মুজিব সুশাসক থাকতেন, তার দলের মধ্যে গণতন্ত্র থাকতো তাহলে আরেকটা দল হওয়ার কোন কথা ছিল না। ১৯৭৫ এর পূর্বে শেখ মুজিব ব্যর্থ ও জিয়াউর রহমান সফল। আর তার সফলতার প্রশ্নেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। জিয়াউর রহমানের সফলতার প্রশ্নেই গণতন্ত্র এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পেয়েছি। তিনি যে গণতন্ত্র এবং বহুদলীয় শাসন দিলেন, দল গঠন করলেন সেই দলেরই আরেকটি হাত, আরেকটি অঙ্গ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল। জিয়াউর রহমানের চিন্তা চেতনায় সবসময় ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেন। তিনি জানতেন একদিন এদেশে মাছ থাকবে না, পানি থাকবে না। কারণ, ভারত যখন ফারাক্কা বাঁধ বন্ধ করে দিয়েছে সেই ফারাক্কা বাঁধের কারণে খাল, বিল, হাওর, বাওর, সব শুকিয়ে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। এ কারণেই মাছের প্রতি নজর রাখতে এবং দৃষ্টি রাখতে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল রেখে গেছেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান সমস্ত ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন যদি কোন কৃষক গরুর খামার, মাছের খামার করতে চায় তাহলে তাকে উৎসাহ দিয়ে কৃষি ঋণ দিতে। আমরা যেন গবাদি পশু হাঁস, মুরগি, গরু এগুলো আলাদা খামারের ব্যবস্থা করি। ভারত আমাদের গরু দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার পরে আমরা যদি গরুর খামার না করতাম, পশু পালন না করতাম, তাহলে বাংলাদেশে এক একটা গরুর দাম হতো ১০ লাখ টাকা। আমাদের প্রতিবেশী দেশ চায় না বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি সুন্দর এবং সুখী সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।
অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বিডিআর হত্যাকান্ডের সমালোচনা করে বলেন, আপনারা জানেন শেখ হাসিনার আমলে বিডিআরকে কারা কে হত্যা করেছে? বাইরে থেকে মেজর জাকির তার বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারেন ভিতরে যে হত্যাকান্ড ঘটতেছে, পোশাক পরা অবস্থায় বিডিআরদের মধ্যে হিন্দি ভাষায় কথা বলতেছে। বাইরে থেকে তিনি জানলেন তারা হিন্দি ভাষায় কথা বলতেছে। কিন্তু দেশে থেকে শেখ হাসিনা জানলেন না, তৎকালীন সেনা প্রধান জানলেন না, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানলেন না, কেন জানলেন না? তাহলে ডাল মে কুচ কালা হে। তাহলে শেখ হাসিনা কি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন? আমাদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন? একদলীয় নির্বাচন ব্যবস্থা কি দরকার ছিল, তার বাবার মতো করার জন্য? সে তার বাবার পরিণতি দেখেছে। তার বাবার পরিণতির জন্য ছয়টি বছর ভারতের মাটিতে ছিলেন। তিনি দায়িত্ব নিয়েই সর্বপ্রথম আবার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য ১৪ সালের নির্বাচন দিলেন। ওই নির্বাচন প্রহসনের নির্বাচন হয়েছিল, আমরা কেউ ভোট কেন্দ্রে যাই নাই। ওই নির্বাচন থেকে তার শিক্ষা নেওয়া দরকার ছিল।
জামায়াতের ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনারা জানেন লগি বইঠা দিয়ে জামায়াতের অনেক লোক মেরেছিল। জামায়াতের শরম নেই। এই দলটা শেখ মুজিবের মতন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের কি ভূমিকা ছিল? স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াত স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। জামায়াত সংগঠনটি দেশের জন্য জন্ম নেয় নাই, তারা নিজেদের জন্য জন্ম নিয়েছে। জামায়াত জামাতের জন্য জন্ম নিয়েছে। জামায়াতের গোড়াপত্তন কোথায়? মওদুদের জন্ম কোথায়? ভারত হয়ে পাকিস্তান।
আওয়ামীলীগের সমালোচনা করে অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, আওয়ামীলীগ কার কথা বলবে ভারতের। আওয়ামীলীগ শব্দটা বাংলা শব্দ না। এটা বিভিন্ন ভাষার মিশ্রণ। আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের গণমানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি একটি সন্ত্রাসী দল। শেখ মুজিব নিজেই স্পিকার শাহাদাতকে পিটিয়ে মেরে ছিলেন। ক্রস ফায়ারের আবিষ্কারক শেখ মুজিব। গণতন্ত্রের হত্যাকারী শেখ মুজিব। গণতন্ত্রের হত্যাকারী শেখ হাসিনা।
অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য সচিব আবদুর রহিম, সাবেক যুগ্ন আহবায়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া, জাকির হোসেন খান, ওমর ফারুক পাটোয়ারী, সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবু তাহের মুসুল্লী, সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দিক, গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম, এমদাদ মুসুল্লী এবং ফজলুল হক মুসুল্লীসহ দলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি তুরাগ নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
