স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও বাংলাদেশ থেকে বৈষম্য দূর হয় নাই: ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম

রোকুনুজ্জামান খান
বিশেষ প্রতিনিদি

print news

গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির এবং গাজীপুর-০৩ (শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর) সংসদীয় আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজের পকেটের কোটি কোটি  টাকা খরচ করে মানুষের মাঝে মাংস (গোস্ত) বিতরণ করেছে। সুতরাং বুঝা যায় কারা রাজনীতি নিজেদের স্বার্থের জন্য করে, কারা এদেশের মানুষের স্বার্থের জন্য করে। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল শুধুমাত্র একটি মানচিত্রের জন্য নয়, একটি পতাকার জন্য নয়, একজন নেতাকে অধিষ্ঠিত করার জন্য নয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশকে বৈষম্য মুক্ত করার জন্য। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে বৈষম্য দূর হয়নি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি বন্ধ হয় নাই।

শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে হোতাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদ পুনর্মিলনী ২০২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ এর স্বাধীনতার পরে যারা এই দেশ শাসন করেছে সবাই চাঁদাবাজি টিকিয়ে রেখেছে। কারণ এই চাঁদাবাজির কমিশন ছাড়া তাদের পেট চলে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছে কিন্তু দুর্নীতি বন্ধ করে নাই। দুর্নীতি ছাড়া তাদের পেট চলে না। তারা চুরি ডাকাতের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, চুরি-ডাকাতি তারা বন্ধ করে নাই। চুরি ডাকাতিকে তারা সমর্থন করেছে। কারণ ডাকাতির টাকায় তাদের পকেট চলে, তাদের সংসার চলে, তাদের পেট চলে। মিল, ইন্ডাস্ট্রি দখল করা, ব্যবসা বাণিজ্য দখল করা এইসব দিয়ে তাদের রাজনীতি চলে। সুতরাং তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। এই দেশ নিরাপদ একমাত্র সৎ এবং খোদা ভীরু নেতৃত্বের হাতে। ১৯৭১ সালের পরে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে প্রকাশ্যে জামায়েত ইসলামী রাজনীতি শুরু করে। এরপর থেকে প্রতিটি সংসদে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রতিনিধিত্ব ছিল। কিন্তু কোন সংসদ সদস্যের এক টাকার দুর্নীতি কেউ প্রমাণ করতে পারে নাই। ২০০১ সালে আমাদের দুইজন মন্ত্রী ছিল। তারা তিনটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছে। এই দুইজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সকল মিডিয়া, আন্তর্জাতিক মিডিয়া, ভারতের র’সহ দেশী এবং আন্তর্জাতিক বন্ধুরা একের পর এক তাদের দুর্নীতি খোঁজার চেষ্টা করেছে। এক টাকার দুর্নীতি মাইক্রোস্কোপ দিয়েও খোঁজে পায় নাই। কারণ, তারা দুনিয়ার কোন মানুষকে ভয় করে নাই। তারা পৃথিবীর স্রষ্টা রাব্বুল আলামিনের ভয়ে ভীতু ছিল। দুনিয়াতে দুর্নীতি অন্যায় করে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা কাজ করেছে।

ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগামীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি আগামী দিনে সংসদে যেতে পারে বিশেষ করে আমাদের গাজীপুর সদর এবং শ্রীপুর এরিয়াতে যদি আপনারা বিজয়ী হতে পারেন আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা করতে চাই বাংলাদেশে অন্য এলাকায় কি হবে আমি জানি না, কিন্তু আমার এই এরিয়ার মধ্যে দুর্নীতি অথবা দুর্নীতিবাজ কোন শব্দকে আমাদের এই এরিয়ার মধ্যে ঠাঁই দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসা এবং মাদক সেবন এটা এই এলাকার বড় সমস্যা। একজন মাদকসেবী একটি পরিবারকে নয়, একটি সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই কাজটা জেনে বুঝে ৭১ সাল থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত যারা দেশ চালিয়েছে প্রত্যেক দলের নেতারাই মাদক ব্যবসায়ীদেরকে লালন পালন করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে তারা বড় বড় কথা বলে, কিন্তু মাদকের কমিশন ছাড়া তাদের চলে না। আমরা যদি এই এলাকার দায়িত্ব পাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা নির্মূল করার চেষ্টা করব ইনশালআলাহ, এটা আমার ক্লিয়ার ম্যাসেজ।

আজকে রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা, ব্রিজ-কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে দুর্নীতির পাহাড়।  এসব উন্নয়নে যত টাকা বারদ্ধ হয় ময়দানে আসতে আসতে তার অর্ধেক পকেটে চলে যায়। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই এক টাকা বরাদ্দ হলে সেই এক টাকা জনগণের কাছে আসবে। এক টাকার দুর্নীতি আমরা করতে দেব না ইনশাল্লাহ। আমরা যদি দায়িত্ব পাই দায়িত্ব পাওয়ার ৬ মাসের মধ্যে আমরা জলাবদ্ধতা দূরিকরণসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার আমরা করে দিব। মাদকমুক্ত করার চেষ্টা করব, ইনশাল্লাহ। আমাদের সমাজে অনেক গরীব মা-বাবারা অর্থাভাবে কষ্টের জীবন-যাপন করে। চিকিৎসা করতে পারে না, ভাত খেতে পারে না তাদের দেখ ভালের দায়িত্ব ছিল এই রাষ্ট্রের। ৫৪ বছর আমাদের দেশে এ কাজগুলো তারা করে নাই। এই ২৪ এর জুলাই আন্দোলনের পর আমি বিভিন্ন লেভেলে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চললাম, দেখলাম অনেকগুলো বরাদ্ধ এসছে, বরাদ্ধগুলো যথাযথভাবে জনগনের কাছে পৌছায় নাই। এসব বরাদ্ধ যদি জনগনের কাছে পৌছতো তাহলে আমাদের সমাজের মানুষদের মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকতো না। আমরা ধনী-গরিব ব্যবধান দূরিকরণে কাজ করব। প্রত্যেকের যে অধিকার, প্রত্যেকের যে প্রাপ্য সেগুলোকে আমরা যথাযথভাবে প্রত্যেকের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সাম্য, মানবিক এবং কল্যাণ সমাজে পরিণত করার চেষ্টা করব। আল্লাহর নবী মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহকে (সা:) আল্লাহ রাব্বুল আলমিন মানবিক এবং কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্যই দুনিয়াতে প্রেরণ করেছিলেন। সেই সাম্য, মানবিক এবং কল্যাণ রাষ্ট্র করার জন্যেই ৭১ যারা দেশ স্বাধীন করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও সাম্য, মানবিক এবং কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমি আপনাদের কাছে আজকে ঘোষনা করতে চাই নির্বাচনের বিজয়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন করে যাব।

ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামের আমির প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর গাজীপুর জেলার শিক্ষা সচিব মোহাম্মদ উল্লাহ, গাজীপুর সদর উৃপজেলার নায়েবে আমির প্রফেসর আব্দুল বারী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন জামায়াতের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন জামায়াত নেতা সিদ্দিকুর রহমান আকন্দ, আজিজুল হক।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *