গাজীপুরের মির্জাপুর বাজারে নাগরিক ঐক্যর ব্যানারে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিল, দু’জন আটক

রোকুনুজ্জামান খান
বিশেষ প্রতিনিদি

print news

গাজীপুরে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ মিছিল করেছে নাগরিক ঐক্যর নেতাকর্মীরা। দুইটি মিনিবাস ও দুইটি অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন মিছিলে অংশ নেয়। এসময় মির্জাপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করেছে। তাদের দলের গাজীপুর মহানগরীর সভাপতি বিষয়টি আস্বীকার করছেন। বুধবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জয়দেবপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর বাজার রোডে নাগরিক ঐক্য পার্টির ব্যানারে লাঠি ও চাইনিজ কুড়ালসহ মিছিল করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, মির্জাপুর বাজারের বর্তমান ইজারাদার মোবারক হোসেন মুসুল্লি এবং মগবুল মুসুল্লি বিরুদ্ধে নাগরিক ঐক্যর নেতাকর্মীরা এই মিছিল করে। পূর্বে গাজীপুর সদর উপজেলা নাগরিক ঐক্যর সভাপতি আব্দুল গনি মির্জাপুর বাজার থেকে ইজারা তুলতেন। জুলাই আন্দোলনের পর বিএনপির সাথে সমঝোতা করে মির্জাপুর বাজার ভাগ করে নেন। কিন্তুু তিনি তারে অংশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইজারা তুলতে পারেন না। বিএনপির লোকজনই বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইজারা তুলতেছে। মির্জাপুর বাজারে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ মিছিল করায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলকারীদের হাতে লাঠি, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠি ছিল। দুইটি মিনিবাস ও দুইটি অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন মিছিলে অংশ নেয়। বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন মিছিলকারীদের প্রতিরোধ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে মিছলকারীদের নিয়ে আসা নাগরিক ঐক্যর গাজীপুর মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক নাইম এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক ফরহাদকে অ্যাম্বুলেন্সসহ আটক করে। এসময় নাগরিক ঐক্যর ব্যানার ও লাঠি জব্দ করে তারা। খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটক দুজনকে তাদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে ব্যপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

গাজীপুর সদর উপজেলা নাগরিক ঐক্যর সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে মিছিল হয়েছে। আমি এ জায়গায় ছিলাম না, আমি জানিও না। আমি আগে বাজার ইজারা নিয়েছিলাম। জুলাই আন্দোলনের পর বিএনপির সাথে সমঝোতা করে ইজারা নিয়েছিলাম। যে অংশ আমাদেরকে দিয়েছে ওই অংশেও তারা আমাদেরকে বসতেই দেয় না। ওরাই সব ইজারা (কালেকশন করে) তুলে এবং মাদবরি করে।

গাজীপুর মহানগর নাগরিক ঐক্যর সভাপতি ও জেলা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডা. রাশেদুল হাসান রানা বলেন, আপনি আমার ফেসবুক ঘাটলে দেখবেন আমি প্রতিনিয়তই ফ্রী চিকিৎসা দেই। প্রতিদিনই বিভিন্ন ওয়ার্ডে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে ফ্রী ঔষধ দেই। আজকে বুধবার সকালে আমি দুইটা অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছি সদর উপজেলার মির্জাপুর বাজারে। ওই বাজারে আমরা একটি ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প করব। ওই জায়গায় নাগরিক ঐক্যের একটি কমিটি আছে। আমার দলীয় নেতাকর্মীরা ওই জায়গায় উপস্থিত ছিল। ওই সময়ে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা বাজারে একটা মিছিল নিয়ে আসছে। মিছিলের ভিতরে কিছু সংখ্যক লোক ঢুকিয়ে দিয়েছে নামধারী আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি’র কিছু লোকজন। তারা অস্ত্র দিয়ে মিছিলে লোক ঢুকাইয়া দিয়ে ওইটার ফুটেজটা শুধু ভিডিও করেছে। পুরো ভিডিওটি না করে ওই ফুটেজটা শুধু ছাড়ছে এবং বলতেছে নাগরিক ঐক্যের লোকেরা বাজার দখল করতে গেছে। পূর্বে মির্জাপুর বাজার নাগরিক ঐক্যের সদর উপজেলার সভাপতি আব্দুল গনি প্রায় পাঁচ বছর নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের (নামধারী আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি’র কিছু লোকজন) যে একটা ক্ষোভ ছিল বাজারটা তারা নিবে। এই বাজারটা দখল করার জন্য তারা এই কাহিনীটা করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার সাধারণ সম্পাদক নাইম এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক ফরহাদকে অ্যাম্বুলেন্সসহ আটক করে। অ্যাম্বুলেন্স চালককেও আটক করেছে অ্যাম্বুলেন্স কেন এই জায়গায় (বাজারে) নিয়ে এসেছেন। ওসিকে জিজ্ঞেস করলাম কেন আটক করেছেন। ওসি বলতেছে ওই জায়গায় অস্ত্রের মহড়া। তারপর আমি বলি এই লোকগুলো আমার আমার কমিটির লোক না। আপনি ভিডিও ফুটেজে দেখেন তারা আমার কমিটির লোক কিনা। গন্ডগোল দেখে আমিসহ অন্যান্য চিকিৎসকেরা আর ওই জায়গায় যেতে পারিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল পর্যায়ের লোক জানে আমি বিনামূল্যে ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প করতেছি এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করি।

তিনি আরো বলেন, বাজার ইজারার জন্য গাজীপুর সদর উপজেলা নাগরিক ঐক্যর সভাপতি আব্দুল গনি ভাই ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা দিয়া রাখছে। এই টাকা যেন উনি নিতে না পারে এজন্য তারা এই কাহিনী করেছে। আপনারা দেখবেন কিছুদিন আগে আমাদের এক মানববন্ধনে বিএনপির লোকেরা হামলা করেছে। আপনারা এটা জানেন কিনা। যখন নাগরিক ঐক্যের লোকেরা ওই জায়গায় ভালো কিছু কাজের জন্য যাই তখন তারা বিভিন্ন লোক দিয়া বিভিন্ন জিনিস ঢুকাইয়া এরকম করে।

মির্জাপুর বাজারের বর্তমান ইজারাদার মোবারক হোসেন মুসুল্লি এবং মগবুল মুসুল্লির মুঠোফোনে (০১৮১৮-৭১ ৫১ ১৭) একাধিকবার ফোন দিলে বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন রিজভীর মুঠোফোনে (০১৭১১-৯০ ২১ ৬৬) একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু তাহের মুসুল্লী রাত সাড়ে ৮টায় বলেন, মির্জাপুর বাজারে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ মিছিলের বিষয়ে কিছু শুনছেন কিনা এ প্রশ্নে বলেন আমি উত্তরায় ছিলাম। আমি জেনে তারপর বলতে পারব।

মির্জাপুর বাজারে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রসহ মিছিলের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, এ বিষয়ে এখানো পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছেন। আবার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য তাদেরকে আমরা সরাইয়া নিয়ে এসেছি যাতে সংঘর্ষ না হয়। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *