গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সংঘর্ষে ওসিসহ ২০ জন আহত

রোকুনুজ্জামান খান
বিশেষ প্রতিনিদি

print news

গাজীপুর সদর উপজেলায় ইউটা নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড নামক একটি কারখানার শ্রমিকরা ছুটি ও অন্যান্য সুবিধার দাবিতে বিক্ষোভ করলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এসময় ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং ১৫ শ্রমিক আহত হন।

অন্যদিকে, গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টস নামে একটি কারখানায় জিন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন, যার ফলে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার হোতাপাড়া (মনিপুর) ও বাঘের বাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে মণিপুর এলাকার ইউটা নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা ছুটি ও বেতন-ভাতা সংক্রান্ত ৬ দফা দাবিতে কাজ বন্ধ রেখে কারখানার সামনে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তারা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে হোতাপাড়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় লেন অবরোধ করেন, ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিজিবি ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে শ্রমিকরা তখনও বিক্ষোভ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান এবং মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকরা পুনরায় কারখানার গেটের সামনে জড়ো হয়ে হোতাপাড়া-মনিপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং জয়দেবপুর থানার পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারখানা মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়। পর শ্রমিকদের সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিয়ে চলে যান। তবে, কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

শ্রমিকদের ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: আন্দোলনের কারণে কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই বা হয়রানি করা যাবে না, নাইট বিল ১২৫ টাকা করতে হবে, ছুটি কাটালেও হাজিরা বোনাস প্রদান করতে হবে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ডিউটি করালে ওভারটাইম দিতে হবে এবং বিকল্প ডিউটি করানো যাবে না, ঈদের ছুটি ১০ দিন দিতে হবে, যার মধ্যে ৫ দিন সরকারি ছুটি থাকতে হবে, চলতি মাসের বেতন কমপক্ষে ২০ দিনের দিতে হবে। এছাড়া শ্রমিকরা কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণেরও দাবি জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন—ওয়াশিং সেকশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক রঞ্জু, সিনিয়র ম্যানেজার মোজাফফর হোসেন, মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা জাবির, ওভেন গার্মেন্টস কর্মকর্তা থারাক্কা, লাকসিতা।

অপরদিকে, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাঘের বাজার এলাকায় মন্ডল ইন্টিমিটস লিমিটেড কারখানার চারজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকাল পৌনে ৮টার দিকে জিন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে হইচই শুরু করেন। পরে পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের বুঝিয়ে কাজে ফেরান।

একই এলাকায় বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানায় জিন আতঙ্কে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা কারখানা ছেড়ে বাড়ি চলে যান।

এদিকে বেলা তিনটার দিকে আবারো হোতাপাড়া এলাকায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে ফু-ওয়াং ফুড লিঃ কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড় অবরোধ করে। এ সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে পুলিশ এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করাম। এসময় আধা ঘন্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তা সহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে বিকেল তিনটার দিকে আবারো হোতাপাড়া এলাকায় ফু-ওয়াং ফুড লিঃ নামে একটি কারখানা শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশ তাদেরকে বুঝিয়ে কারখানার ভেতর ফিরিয়ে নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *