ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহতের ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের বনপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও পাঁচজন। দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিশু আহুদিয়া (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সামাদ (৭০), জুয়েল (৪০), জহুর উদ্দিন, শামলাল মোল্লা (৪৫), কাশেম (৩৫) ও জাহান উদ্দিন মোল্লা। এ ছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক মো. সোহেল রানাও নিহত হয়েছেন। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। এ দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালকও নিহত হয়েছেন। তবে তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিংয়ের কারণে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, মহাসড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি এড়ানো যায়।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নাটোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে আহত নয়জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। বাকি সাতজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য চারজন বর্তমানে নাটোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। তাঁরা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেন।

জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

রংপুর বিভাগে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ায় রেঞ্জ ডিআইজির কৃতজ্ঞতা

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি

Update Time : ১২:৪৩:০৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহতের ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের বনপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও পাঁচজন। দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিশু আহুদিয়া (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সামাদ (৭০), জুয়েল (৪০), জহুর উদ্দিন, শামলাল মোল্লা (৪৫), কাশেম (৩৫) ও জাহান উদ্দিন মোল্লা। এ ছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক মো. সোহেল রানাও নিহত হয়েছেন। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। এ দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালকও নিহত হয়েছেন। তবে তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিংয়ের কারণে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, মহাসড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি এড়ানো যায়।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নাটোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে আহত নয়জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। বাকি সাতজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য চারজন বর্তমানে নাটোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। তাঁরা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেন।

জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।