বি.কে. বাড়িতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, সন্ধ্যার পর পথচারীদের আতঙ্ক

print news

স্টাফ রিপোর্টার :- গাজীপুর সদর উপজেলার বি.কে. বাড়ি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর গ্রিভেন্সী স্প্রিং মিলের মেইন গেট, সিকদার মার্কেট ও মোহাম্মদ আলীর বাড়িসংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে কিশোরদের জটলা ও পথচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর ৫ থেকে ৭ জনের কয়েকটি কিশোর দল বিভিন্ন অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেয়। কারখানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে নারী-পুরুষসহ শ্রমজীবী মানুষ তাদের টার্গেটে পরিণত হন। পথরোধ করে তল্লাশির নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কখনো পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এতে সন্ধ্যার পর ওই এলাকার পথচারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের অভিযোগ, মাস শেষে বেতন পাওয়ার পর বাড়ি ফেরার সময় তারা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকেন। ছিনতাইয়ের শিকার হলে উপার্জনের টাকা ও মোবাইল হারানোর পাশাপাশি বাসা ভাড়া, দোকানের বকেয়া ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতেও তাদের সমস্যায় পড়তে হয়।
তারক মন্ডল নামে এক পোশাক শ্রমিক অভিযোগ করেন, তালতলী থেকে সিকদার মার্কেট যাওয়ার পথে গ্রিভেন্সী স্প্রিং মিলের মেইন গেটের সামনে কয়েকজন কিশোর তার পথরোধ করে। তল্লাশির নামে তার পকেটে টিস্যু ঢুকিয়ে ইয়াবা আছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ওই কিশোররা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আলম জানান, মাদ্রাসা থেকে ছেলেকে নিয়ে ফেরার সময় তার শ্যালকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি কিশোর চক্র জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নজরে আনা হলে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দ্রুত থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হবে।
ইউএনও আরও বলেন, এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের যেকোনো অপতৎপরতা রোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও তল্লাশি অব্যাহত থাকবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান থাকবে।
এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। পরে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর বি.কে. বাড়ির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার, ছিনতাইয়ের অভিযোগগুলো তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক অনেকটাই কমবে।