
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকার বালিয়াপাড়া গ্রামে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ছয়টি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (২১ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে মুক্তাগাছা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছেন—৭০ বছর বয়সী রহিমা বেগম, ইসমাইল ফরাজী, আলম, সূরুজ আলী ও আব্দুর রাজ্জাক।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা আব্দুল মুনসুর ও তার ছেলে আরাফাতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সাড়ে তিন একর জমির দখল নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল ইসমাইল ফরাজী, আলম, সূরুজ আলী ও আব্দুর রাজ্জাকের।
ঈদের দুইদিন পর এই বিরোধের জেরে সূরুজ আলীর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। মুনসুরের ছেলে আরাফাতের নেতৃত্বে পুড়াবাড়ি এলাকার সোহেল ও আশাদুল তাকে কুপিয়ে আহত করে হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে সূরুজ আলীর পরিবারের লোকজন প্রতিশোধ নিতে গিয়ে মুনসুরকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় মামলা হয় এবং অভিযুক্ত সূরুজ আলী ও রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যরা গ্রেফতার এড়াতে পলাতক থাকেন।
স্থানীয়দের ধারণা, এই পূর্ববিরোধ ও প্রতিশোধপরায়ণতার জের ধরেই মুনসুর পক্ষের লোকজন বসতঘরগুলোতে আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত সূরুজ আলী বলেন, “মুনসুর ও তার ছেলের বাহিনী আগেও আমাদের কুপিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এখন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তারা ঘরে আগুন দিয়েছে। আমি ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত রহিমা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “ঘরে আগুন না দিয়ে আমাদের মেরে ফেললেই পারতে। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। আমরা কী অপরাধ করেছিলাম?”
এ বিষয়ে মুনসুরের এক প্রতিবেশী ও বিএনপির এক কর্মী জানান, “রাজ্জাক ও সূরুজ আলীদের পরিবারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় দলের সমর্থক রয়েছে। কিন্তু মুনসুর যেভাবে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির পদ ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করছে, তা লজ্জাজনক। তার কারণে দলের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এখনই তাকে থামানো দরকার।”
অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মুনসুর বলেন, “আমি অসুস্থ, কিছুই জানি না।” তবে অন্য অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে সরাসরি দেখা করার কথা বলে ফোন কেটে দেন।
মুক্তাগাছা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. রকিবুল ইসলাম জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দুইটি ইউনিট পাঠাই। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।”
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
- Latest Posts by বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক
-
গাজীপুরের আলোচিত ঝর্ণা হত্যা: আসামির বয়স জালিয়াতি করে কিশোর সাজানোর চেষ্টা
- -
“উদ্ভাবন সুরক্ষায় মেধাস্বত্ব অপরিহার্য” — গাকৃবি ভিসি
- -
পঞ্চগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আইনজীবী সোলেমান হক নিহত
- All Posts
