গাজীপুরে নবজাতককে জিম্মি করে অর্থ দাবির অভিযোগ: পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার

বর্তমান বাংলাদেশ ডেস্ক

print news

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর সদর উপজেলায় সদ্যপ্রসূত এক নবজাতককে জিম্মি করে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে বাড়িওয়ালি নাছিমা বেগম (৪২)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা রুমা আক্তার (২২) জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ নবজাতককে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার মির্জাপুর পূর্বপাড়া এলাকায়। ভুক্তভোগী রুমা আক্তার শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি থানার সালদা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তার স্বামী নূর ইসলামের সঙ্গে নাছিমা বেগমের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। নূর ইসলাম পেশায় একজন ইটভাটার শ্রমিক।

রুমা আক্তার জানান, ১৪ ডিসেম্বর ভোর ৫টার দিকে প্রসব বেদনা শুরু হলে বাড়ির মালিক নাছিমা বেগম স্বামী ও আত্মীয়দের সঙ্গে তাকে একটি অটোরিকশায় হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। তবে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অটোরিকশার ভেতরেই রুমা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

এ সময় নাছিমা বেগম নবজাতকের নাড়ি কাটানোর জন্য তাকে একা হাসপাতালে নিয়ে যান এবং রুমা আক্তার ও তার স্বামীকে বাসায় ফিরে যেতে বলেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর নাছিমা ফিরে এসে নবজাতক ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। রুমা আক্তার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নাছিমা ক্ষিপ্ত হয়ে নবজাতক ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ ঘটনায় রুমা বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বুধবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পিরুজালী এলাকা থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করেনি পুলিশ।

ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে রুমা আক্তার রাতেই বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নেন। তার স্বামীও পরদিন সকালে কর্মস্থলে চলে যান। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, নাছিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে বারবার আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যান।

অভিযুক্ত নাছিমার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মেয়ে জানান, মা বাড়িতে নেই। পরে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মির্জাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শাহ্ আলম জানান, পুলিশ নবজাতককে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।

জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুল হাসান বলেন, “নবজাতককে উদ্ধার করে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, টাকার অভাবে রুমা আক্তার নবজাতককে জন্মের আগেই দত্তক দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এটি ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে।”

সরেজমিনে ইটভাটায় গিয়ে রুমা আক্তারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, “আমাদের নানা ভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাই আমরা ওই বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি। এখন আমাদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা নাছিমা বেগমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জয়দেবপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, অভিযোগের পর নবজাতককে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়া দিন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *