
নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গাজীপুর সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে চারটি ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করবেন নির্বাচিত তথ্য সংগ্রহকারীরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক অবহিতকরণ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোবারক হোসেন।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পরিবারের নারীপ্রধানের নামে এ কার্ড প্রদান করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে জুন পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিনস টেস্ট পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। শ্রেণিগুলো হলো অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত। পিএমটি স্কোর অনুযায়ী ৮৬০ বা তার কম নম্বর পাওয়া নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে সব নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পেলেও প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত পরিবারের যোগ্য নারী পরিবারপ্রধানদের ভাতা দেওয়া হবে।
গাজীপুর সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ১৭৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ১৮ জন তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন করা হয়েছে। মোট ছয়টি ব্যাচে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে গত ১০ ও ১১ অক্টোবর প্রথম ব্যাচে ১৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও দুজন তত্ত্বাবধায়ককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারীরা মঙ্গলবার পিরুজালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে জরিপ শুরু করবেন। তাঁরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট যন্ত্র ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে পিএমটি পদ্ধতিতে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।
জরিপ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গাজীপুর সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিটি পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের নম্বর এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি জরিপ কার্যক্রমে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।