
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বড়হর এলাকার রেজু মোল্লার টেকের গেজেটভুক্ত সরকারি বনভূমি থেকে শাল-গজারি গাছ কেটে পাচারের ঘটনায় অবশেষে মামলা করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় গাছ বিক্রেতা তাজ উদ্দিন মোল্লা ও ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা ১৮টি শাল-গজারি গাছ জব্দ করা হয়েছে।
গোসিংগা বিট কর্মকর্তা ও ডেপুটি রেঞ্জার হাবিবুর রহমান জানান, সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাছগুলো জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা গাছগুলো পাকিয়াব সাব-বিট কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারি সম্পদ নষ্টের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ও বিক্রেতা তাজ উদ্দিনকে আসামি করে বন অপরাধ দমন আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা ১৮টি শাল-গজারি গাছের প্রতিটির আকার প্রায় ২ ফুট বেড় ও ২৫ ফুট লম্বা। গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৪ হাজার টাকা।
এর আগে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, বড়হর এলাকার রিয়াজ উদ্দিন মোল্লা ওরফে রেজুর ছেলে তাজ উদ্দিন মোল্লা গাছগুলো দেলোয়ার হোসেনের কাছে বিক্রি করেন। পরে দেলোয়ার গাছগুলো কেটে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করেন। তাজ উদ্দিনের ছোট ভাই আবুল কাশেমও সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গাছগুলো আমার বড় ভাই তাজ উদ্দিন বিক্রি করেছেন। জায়গাটিও সরকারি গেজেটভুক্ত বন বিভাগের সম্পত্তি।”
অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন বলেন, গাছগুলো আমি তাজ উদ্দিন মোল্লার কাছ থেকে বেশ কিছুদিন আগে কিনেছি। এখন কেটেছি পাচারের উদ্দেশ্যে। এ ব্যাপারে আলম সব জানে।”
এদিকে ঘটনার পর আলম নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের মামলা থেকে রক্ষা করতে তিনি তৎপরতা চালিয়েছেন এবং তাদের বন অফিসে নিয়ে গিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গেজেটভুক্ত প্রাকৃতিক শালবন ও সরকারি বনভূমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র শাল-গজারি গাছ কেটে পাচার করে আসছে। তাদের দাবি, তদন্তে শুধু গাছ পরিবহন বা মজুতকারীদের নয়, গাছ বিক্রি, কাটার নির্দেশনা ও পাচারের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তে নতুন কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, তদন্ত নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি গেজেটভুক্ত বনভূমিতে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও পাচার বন্ধে বন বিভাগের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।